‘উদয়ন’-‘তূর্ণা’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৬, আহত শতাধিক

23

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় যাত্রীবাহী দুই ট্রেন ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ও ‘তূর্ণা নিশীথা’র মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কসবা উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকেই চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি শ্যামল কান্তি দাস ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে আসামাত্রই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুই ট্রেনেরই কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে নেয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধারের কাজ চলছে।

ইতিমধ্যে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে ৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদয়ন এক্সপ্রেসের মাঝ বরাবর দুটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে রয়েছে। সেখানে কেউ আটকে পড়ে আছে কিনা, তা বোঝার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

দুর্ঘটনাটি ঘটার সময় ট্রেন দুটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। এ ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রামের মধ্যে রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে সংঘর্ষে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা।

নিহতদের মধ্যে যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোরাদ এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসূফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম জানান, দুর্ঘটনায় আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৫৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তার মধ্যে কুমিল্লায় ১২ জন, ঢাকায় ৩ জন, আশুগঞ্জ ১০ জন, আখাউড়ায় ২ জন, কসবায় ২ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদয়ন এক্সপ্রেসের মাঝ বরাবর দুটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে রয়েছে। সেখানে কেউ আটকে পড়ে আছে কিনা, তা বোঝার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

মন্তব্য করুন

comments