চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসিতে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ও জিপিএ ৫

66
শেয়ার
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ভবন
ছবিঃ সংগৃহিত

এইচএসসিতে পাঁচবছরের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন পাসের হার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ কমেছে। যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পাস করেছে ৬১ দশমিক ০৯ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৬৪ দশমিক ৬০। গেল ৫ বছরের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন ফল। গতবার জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন ২ হাজার ২৫৩। এই সংখ্যা কমে ১ হাজার ৩৯১ জনে নেমে এসেছে। যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মাত্র ২ দশমিক ৭৬ ভাগ। এবার জিপিএ ৫ এর সংখ্যা একলাফে কমেছে ৮৬২ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গতবার বিজ্ঞানে ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৫ এর সংখ্যা বাড়লেও মানবিক বিভাগে কমেছিল। কিন্তু এবার তিন বিভাগেই এ সংখ্যা কমেছে উল্লেখজনক হারে। এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৭৯ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে থেকে ২৭৮ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ৩৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এছাড়া যথারীতি এবারও পাসের হার কম মানবিকে। যা ৪৭ ভাগ। আর বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি ৭৭ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৫ ভাগ। সার্বিক ফলে এবারও এগিয়ে ছাত্রীরা। তাদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৬৫ ভাগ হলেও ছাত্ররা পাস করেছে ৫৯ দশমিক ৫৫ ভাগ।

ফলাফলে এবারও উন্নতি নেই তিন পার্বত্য জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ও কক্সবাজারে। এইচএসসি পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ করার কারণ হিসেবে খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় ফিজিক্স প্রথম পত্র এবং আইসিটি’তে তুলনামূলক ফলাফল খারাপ হয়েছে এবার। এছাড়া মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ সুবিধাও কম। দক্ষ শিক্ষকরাও শহরমুখী। মফস্বলের বিভিন্ন কলেজের খারাপ ফলাফল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, এবছর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে আইসিটি বিষয়ে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টিতে এবার অনুত্তীর্ণ বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২০১৩-২০১৪ সেশনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে যুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও মানবিক তিন বিভাগেই বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়। যদিও এখনো কলেজে-কলেজে আইসিটির শিক্ষক স্বল্পতা, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে।

এছাড়া, নম্বর বন্টনের নতুন নিয়মের কারণেই সবকয়টি বোর্ডের ফলাফলে এমন প্রভাব পড়েছে। নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের কারণে ফলাফল এরকম হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা। প্রসঙ্গতঃ আগের ৬০ নম্বরের সৃজনশীল (তত্ত্বীয়) প্রশ্নের স্থলে ৭০ নম্বর এবং এমসিকিউ অংশে ৪০ নম্বরের স্থলে ৩০ নম্বরের উত্তর লিখতে হয় এবছর শিক্ষার্থীদের। আর বিজ্ঞানের বিষয়গুলোসহ ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়ে সৃজনশীল ৪০ নম্বরের স্থলে ৫০ এবং এমসিকিউ অংশে ৩৫ এর স্থলে ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়।

সারাদেশের সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে প্রায় অর্ধেক। আর একজনও পাস করতে না পারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে অর্ধেকেরও বেশি। এ বছর উত্তরপত্রে নম্বর দেয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকায় এবারের দুটি পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। যদিও পরীক্ষা নিরীক্ষন সংশ্লিষ্ঠরা এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে নানবিধ সমস্যাকে দায়ী করছেন।

মন্তব্য করুন

comments