ছিনতাইয়ের মোবাইল কেনা-বেচা; দুই দোকানদারসহ ৪ জন আটক

42

চট্ট্রগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা হতে ১৬০ টি চোরাই এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে সিএমপি’র কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের সিডিএ হকার মার্কেটের আলিফ ইলেকট্রনিক্সের দোস্ত মোহাম্মদ মানিক (৫৪) ও একই বাজারের ইসলাম মার্কেটের এন কে মোবাইল নামে একটি দোকানের মালিক খলিলুর রহমান (৩১) এবং একই বাজারের মক্কা টাওয়ারের মাদার টাচ নামে একটি দোকানের কর্মচারী সাহেদুল ইসলাম (২৪) ও চুরি-ছিনতাই করা মোবাইল সরবরাহকারী সোহেল রানা (৩০)।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতভর নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে দুটি দোকানে অভিযান চালিয়ে মোবাইল সেটগুলো ‍উদ্ধারের পাশাপাশি চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানাধীন লাভলেইন মোড় হতে ছিনতাইকারী মোঃ নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত হতে ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওসি মহসীন বলেন, ‘রোববার আমরা যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ছিনতাইকারী দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শতাধিক মোবাইল ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে। সেই মোবাইলগুলো রিয়াজউদ্দিন বাজারের কয়েকটি দোকানে বিক্রি করার কথা জানায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তিনটি দোকানে অভিযান চালাই এবং ১৬০টি মোবাইল সেট উদ্ধার করি।’

ওসি জানান, দোস্ত মোহাম্মদের দোকান থেকে ৭৩টি, খলিলুর রহমানের দোকান থেকে ৬৫টি, সাহেদুল ইসলামের দোকান থেকে ২২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। সাহেদুল ইসলামের দোকানের মালিক খোরশেদ আলম (৩৫) পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। উদ্ধার করা মোবাইলগুলো আমদানি বা কেনার কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সেগুলো চুরি-ছিনতাই করা মোবাইল তারা কিনে নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.কামরুজ্জামান জানান, একসময় চুরি-ছিনতাই করা মোবাইল কিনে বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম আলো। দুইবছর আগে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলো মারা যায়। এরপর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ আসে মানিক, খলিলুর ও পলাতক খোরশেদের হাতে। মানিক ও খোরশেদ আপন মামা-ভাগিনা। অপরাধ জগতে এই চক্রের নাম ‘মামা-ভাগিনা’ সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত। গ্রেফতার সোহেল চোর-ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মোবাইল কিনে রিয়াজউদ্দিন বাজারে সরবরাহ করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, যুবলীগ পরিচয়ে ছিনতাই চক্রের হোতা নজরুল ইসলাম পুলিশকে জানান, মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল বিক্রি করতেন আলিফ ইলেক্ট্রনিক্স, মাদার টাচ ও এনকে মোবাইল নামের দোকানে। পরে তাকে নিয়ে আলিফ ইলেক্ট্রনিক্সে অভিযান চালিয়ে ৭৩টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এসব মোবাইলের কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মালিক দোস্ত মোহাম্মদ মানিককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর এনকে মোবাইল নামের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬৫টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মালিক খলিলুর রহমানকে। মাদার টাচ নামের মোবাইল বিক্রির দোকানে অভিযান চালিয়ে ২২টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। দোকানটির মালিক খোরশেদ আলম পালিয়ে যাওয়ায় কর্মচারী সাহেদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খলিলুর রহমান স্বীকার করেছেন উদ্ধার হওয়া মোবাইলের মধ্যে কিছু মোবাইল সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। পরে নগরের কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা মিরিন্ডা লেইনের এসডিসি টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ সংক্রান্তে সিএমপি’র কোতোয়ালী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে ।

মন্তব্য করুন

comments