“কবিরাজ হতে সাবধান!”

83

আমরা জাতি হিসাবে বীরের জাতি।বিশ্ব সেটা অবগত। লোভ আর কুসংস্কার এখনো আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। লোভ আর কুসংস্কার আমাদের কতটা ধ্বংস ডেকে আনে মনে হয় আমাদের নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিকাশ প্রতারনার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ,মোবাইল কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার কর্মী সেজে টাকা আত্মসাৎ,স্বর্নের ডেক ভাসছে বলে টাকা আত্মসাৎ,নকল স্বর্নের বার দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ,এসবের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারনার খবর হরহামেশাই ঘটে থাকে।

কিন্তু এসব প্রতারনার স্বীকার হয় কারা, সাধারন মানুষ। লোভী মানুষ ও বলতে পারেন। ভেবে দেখুনতো, বিকাশের মাধ্যমে এবং মোবাইল কোম্পানির কর্মী সেজে গ্রাহককে কল করে লটারির মাধ্যমে অনেক টাকা পেয়েছেন আপনি বিকাশে টাকা পাঠান, আমি জ্বীনের বাদশা বলছি, তোর পরিবারের বিপদ,অথবা তোর রাজ কপাল,তুই স্বর্ণভর্তি ডেক পাবি,এভাবে করে মানূষের মনের ভেতর ঢুকে সব শেষ করে বের হয়ে যায়। বলতে পারেন এসব ঘটনার স্বীকার যারা লোভী তারাই।

আমি লটারির জিতেছি তো বিকাশে টাকা পাঠাতে হবে কেন? পাঠাতে হবে কারণ অন্য কেউ জানতে পারলে লটারির টাকা যদি হাত ছাড়া হয়ে যায়। আবার জ্বীনের বাদশা কল করে যখন বলে যে,তোর রাজ কপাল অথবা দুঃখের কপাল তখন লোভী মানুষ গুলো কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানূষ গুলো ভয় পেয়ে যায়,কারন তাদের বিশ্বাসে দূর্বলতা আছে। জ্বীনের বাদশা মোবাইলে কথা বলে? জ্বীনের বাদশার টাকার দরকার কেন? আল্লাহ তাআলা কপালে যা রেখেছে তা কি কেউ খন্ডাতে পারে?নিজের সৃষ্টি কর্তার চেয়ে দয়ালু এবং শক্তিশালী কেউ নেই। এসব প্রশ্ন গুলো যখন আমরা নিজেরা নিজের মনকে করব,তখন আর এসব ভণ্ড কুলাংগারদের হাত থেকে বাঁচতে পারব।

ঘটনাটি পাচঁলাইশ থানাধীন শুলকবহর এলাকায়। পরিবারের নাম বা ভিকটিমের নাম আমি বলতে চাই না । পাঠকের সচেতনতার জন্য লিখছি। ঘটনাটি একটা ভন্ড কবিরাজকে নিয়া। নাম তার আব্দুল জলিল। মাজার থেকে বিভিন্ন তাবিজ-কবজ ক্রয় করে প্রতারনা করে থাকে। সে নিজেকে একজন বড় ধরনের কবিরাজ দাবি করে। অথচ তাকে জিজ্ঞাসাবদে সে একটি সূরাও বলতে পারেনি। নিজেকে জ্বীনের বাদশা হিসাবে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে তার পরিবারের কাছে প্রবেশ করে।

পিতার ব্যবসা বানিজ্য ভালো যাচ্ছেনা,তাই পিতা ব্যবসা বাণিজ্য ভালো করার জন্য কবিরাজ জলিলের দ্বারস্থ হয়। জলিল তার ব্যবসায় লাভ হবে এবং স্বর্নের ডেকের লোভ দেখায়। লোভে পড়ে যায় ভিকটিমের বাবা। সেই সুযোগে আশেপাশের লোকজনদের নিকট থেকে একই কায়দায় প্রায় ৬০,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

কিন্তু ঘটনার নির্মমতা তো অন্য জায়গায়। ভন্ড কবিরাজের নজর পড়ে পরিবারের ছোট মেয়ের উপর।ভিকটিমের বুকে ব্যথা। হয়তো কিছু টাকার গ্যাসটিকের ট্যাবলেট খেলে ব্যথা শেষ। কিন্তু আধুনিক যুগে শহুরে পরিবেশে থেকে একজন ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে কি করে মানুষ একজন কবিরাজের দ্বারস্থ হয় তা মাথায় আসেনা। ছোট মেয়ের নাকি জ্বীনের আছর আছে। মেয়েকে নামাজে রাখতে হবে। সদা সত্য কথা বলতে হবে।আহ্ কি সদুপদেশ। তার জন্য কি করতে হবে?ভিকটিমকে আলাদা একটি কক্ষে রাখতে হবে। কথামতো পরিবারের সদস্যরা তাকে আলাদা একটি কক্ষে রাখে।পরিবারের অন্যরা বেড়িয়ে যায়।মেয়েটিকে কবিরাজ প্রশ্ন করে তোমার কোথায় ব্যথা, মেয়েটি বলে তার বুকে ব্যথা। মেয়েটিকে আমল করতে হবে এবং তাকে সত্য কথা বলতে হবে।একটি বড় বইকে কোরআন মনে করে মেয়েটিকে কবিরাজ শপথ করায় যে,তার সাথে যা হবে তা কাউকে যেন না বলে। মেয়েটার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে কবিরাজ জ্বীনের ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।এভাবে কিছুদিন পর আরেক বার।পরিবারের শিক্ষিত ছেলেটি ঢাকায় চাকরী করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সে বাড়িতে আসে এবং ঘটনাটি বুঝতে পেরে পুলিশের শরনাপন্ন হয়।

ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেফতার করা হয় এবং এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এবং ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি শেষে আজ ভণ্ড কবিরাজ জলিলের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। ঘটনার অকপট স্বীকারোক্তি।

তাই বলছি কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসুন এবং লোভ লালসা থেকে মুক্ত থাকুন তাহলে কোন প্রতারক আপনাকে ঠকাতে পারবেনা।

লেখকঃ
শাহাদাত হোসেন
ওসি তদন্ত, পাঁচলাইশ থানা
চট্টগ্রাম

মন্তব্য করুন

comments