ক্লাসে ফিরছে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা

36
শেয়ার

দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর এ ঘোষণা দেয় তারা।

আজ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যাবে বলে জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করে।গতকাল রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আন্দালনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবি উত্থাপন করে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্র মিনহাজ উদ্দিন রিফাত।

শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ৯ দফা দাবির পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি জানায়। বৈঠকে নগরীর ৩৯টি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করে।

কেন্দ্রীয় দাবির পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের দাবিগুলো হলো-বেপরোয়া গতির গাড়িতে কেউ মারা গেলে চালকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা, এ বিষয়ে আইন পাস, নগরীর সড়কের পাশে প্রত্যেক স্কুল-কলেজের সামনে ফুট ওভারব্রিজ অথবা আন্ডার পাস নির্মাণ, স্পিডব্রেকারসহ যাত্রী ছাউনি তৈরি, জেব্রা ক্রসিং তৈরি, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা খরচ ও নিহতের পরিবারের ভার সরকারকে বহন এবং স্কুল-কলেজ ছুটির সময় বাসকে ইশারা করলে দাঁড়াতে হবে। এতে ট্রাফিক পুলিশ সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীদের পরিবহনের ক্ষেত্রে ভাড়া অর্ধেক নিতে হবে। ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো ট্রাক নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। নগরীতে সরকারি স্কুল-কলেজের জন্য ২০টি বাস সার্ভিস দিতে হবে। সেইসাথে বিআরটিসি’র অকেজো বাসগুলো সচল করে দিতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে। ভাড়া নিতে হবে অর্ধেক। স্কুল-কলেজের সামনে ট্রাফিক সার্জেন্টের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা।

এসব দাবির জন্য একটি যৌক্তিক সময় দিয়ে কার্যকর করার নিশ্চয়তা প্রদান করলে ছাত্ররা আর আন্দোলনে যাবে না বলে রিফাত জানায়।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, সবগুলো দাবি কার্যকর করতে একটু সময় তো লাগবে। যেসব সমস্যাগুলো চট্টগ্রাম থেকেই সমাধান করা যাবে তা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে চিঠি পাঠানো হবে। বাকি যেসব দাবি রয়েছে সেগুলো শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি আকারে দিলে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আজকে (রোববার) থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে। এখানে এক একটা টিমের সাথে দশজন করে রোভার স্কাউট দেয়া হয়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহের সাথে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টও চলবে। তোমরা (ছাত্ররা) জানো প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সন্তান। তাই তিনি যেটি বাস্তবায়ন করবেন বলেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে ফেলেন। আর তোমরা যদি ওনার বরাবরে স্মারকলিপি দাও সেটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করবেন।

মন্তব্য করুন

comments