রাউজানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু বিয়ের মাত্র একমাসের মাথায় বিধবা হলেন স্ত্রী

102

চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কের রাউজান পৌরসভায় দ্রুতগামী বাসের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী দুই চাচাতো–জেঠাতো ভাইয়ের। এরমধ্যে একজন দুবাই প্রবাসী ও আরেকজন স্কুল ছাত্র।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে সড়কের রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরা এলাকার সর্ত্তারঘাটের হালদা ব্রিজের পূর্বপাশে টার্নিং পয়েন্টে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পশ্চিম গহিরার নিয়াজ হানিফের বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে মো. নুরুন্নবী রুবেল (২৮) ও তার চাচাতো ভাই মো. মহিউদ্দিনের ছেলে তারেকুল ইসলাম (১৬)। নিহত রুবেল দুবাই প্রবাসী ও তারেক পশ্চিম গহিরা ইউনুছ সুফিয়া চৌধুরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা ১২টার দিকে রুবেল তার সদ্য কেনা নতুন মোটরসাইকেল চালিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা হাটহাজারী যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে পেছনে বসা ছিল চাচাতো ভাই তারেক। এসময় তারা পশ্চিম গহিরা সর্ত্তারঘাট হালদা ব্রিজের পূর্ব পাশে টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছালে চট্টগ্রাম শহরের দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রুবেল। স্থানীয় লোকজন দু’জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় তারেক। রাউজান হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘাতক বাসটি আটক করেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, রুবেল দুইমাস আগে প্রবাস থেকে দেশে এসেছিলেন।একমাস আগে তিনি রাউজান পৌরসভার ছিটিয়াপাড়া এলাকার আমিনুল হকের মেয়ে সোনিয়া আকতারের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন। তার স্ত্রী সোনিয়া আকতার রাউজান কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।এ দুর্ঘটনায় বিয়ের মাত্র একমাস দুইদিনের মাথায় বিধবা হলেন তার স্ত্রী।

আগামী ১৪ এপ্রিল তার প্রবাসে চলে যাওয়ার কথা ছিল। রুবেলরা তিন ভাই ও দুই বোন। ভাইদের মধ্যে সবার বড় রুবেল। তারেক দুইভাইয়ের মধ্যে বড়।

রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবদুল করিম বলেন, একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন প্রাণ হারায়। বাসটি আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments