চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা; মুক্তি মিলবে কবে

81
শেয়ার

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নানান প্রতিশ্রুতির পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নগরবাসীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। অতি সম্প্রতি বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন আগামী দু বছরের মধ্যে নগরবাসী পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে পাবে। যদিও তার মতে একা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এই জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।

সমস্যার শুরু কোথায়?

চট্টগ্রামের উন্নয়নে ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা মহাপরিকল্পনায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘চিটাগাং স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ অ্যান্ড ফ্লাড কন্ট্রোল মাস্টারপ্ল্যান’। এটি ‘ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে কী করণীয়, এই মহাপরিকল্পনায় এর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ২২ বছর পার হলেও কোনো নির্দেশনার বাস্তবায়ন হয়নি।

ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে আকাশে মেঘ দেখলেই আতঙ্ক ভর করে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দাদের। অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। আবার রোদ ঝলমল করলেই যে স্বস্তি নেমে আসবে, তা-ও নয়। মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই অথচ বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে আছে। কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি নগরীর বিভিন্ন খাল উপচে এই অবস্থার সৃষ্টি করে।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম এর সাধারন সম্পাদক স্থপতি জেরিনা হোসেন মনে করেন, তিনটি কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

১. পাহাড় কাটার কারণে এর মাটি ও বালু বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসে নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

২. এছাড়া নালা-নর্দমা দখল করে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

৩. খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পানি যেখানে পড়বে (কর্ণফুলী নদীতে), সেখানে মুখগুলো উঁচু হয়ে গেছে। ফলে জোয়ারের সময় নদীর পানি সহজে প্রবেশ করছে, পরে আর বের হতে পারছে না।

চট্টগ্রামের অতীত-বর্তমান

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে নগরের ৩৪টি খালের তালিকা রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশই এখন নালায় পরিণত হয়েছে। তবে নগরের প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত ৩৪টি খালের বাইরে আরও অনেক খাল ছিল, যেগুলো ভরাট কিংবা দখল হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিনের বর্জ্যের প্রায় ৬৪ শতাংশ পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাবে খাল-নালায় জমা হয়। সিটি করপোরেশন ঘরে ঘরে ডাস্টবিন সরবরাহ করেছে, কিন্তু এই আবর্জনাগুলো কোথায় ফেলবে তার দিকনির্দেশনা নেই। সেসব বর্জ্য ধারণ করছে চট্টগ্রামের সব কটি খাল।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৪১ টি ওয়ার্ডে ৬০ লাখ বাসিন্দা বসবাস করে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ২২টিতেই বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কমবেশি জলাবদ্ধতা হয়। নগরীর ৬০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৩১ লাখ ২৩ হাজার ৬১৩ জন এসব ওয়ার্ডে বসবাস করছে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হয় চান্দগাঁও, পূর্ব ষোলশহর, শুলকবহর, চকবাজার, পশ্চিম বাকলিয়া, পূর্ব বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, উত্তর আগ্রাবাদ, দক্ষিণ আগ্রাবাদ, পাঠানটুলী, বকসিরহাট, গোসাইলডাঙা, উত্তর মধ্যম হালিশহর এলাকার মানুষদের। এই ১৩ ওয়ার্ডে মোট বাসিন্দা ১৮ লাখ ২৮৫ জন।

এ ছাড়া পাঁচলাইশ, মোহরা, পশ্চিম ষোলশহর, উত্তর কাট্টলী, রামপুর, উত্তর হালিশহর, পাথরঘাটা, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ও দক্ষিণ হালিশহরের বাসিন্দাদেরও জলাবদ্ধতায় ভুগতে হচ্ছে। এ ৯টি ওয়ার্ডে বাস করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৩২৮ লোক।

জোয়ারে ডোবে আগ্রাবাদ-হালিশহর

গত ৩০ ও ৩১ মে এবং ১১ ও ১২ জুন ভারী বর্ষণে ডুবে যায় নগরীর প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা। বিভিন্ন এলাকার পানি দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে নেমে গেলেও নগরীর আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় পানি জমে ছিল চার দিন। মূলত মহেশখালে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। আর এ বাঁধ দেওয়া হয়েছিল কর্ণফুলী নদীর জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা থেকে আগ্রাবাদ ও হালিশহরের বাসিন্দাদের রক্ষা করতে। একপর্যায়ে সেটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। এখন সেটি অপসারণের কাজ চলছে।

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি যাতে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমতে পারে, এ জন্য নগরীর আগ্রাবাদ, বাকলিয়াসহ আটটি এলাকায় জলাধার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল ‘ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনায়’ । কিন্তু এসব জলাধার এলাকায় বসতি গড়ে উঠেছে।

ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বাজেট ও খরচ

মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় এর বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯০০ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন এর বাস্তবায়নে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

জলাবদ্ধতা দূর করতে গত ১৪ বছরে ৩২৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে খরচ হয়েছে ২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে তিন মেয়র খরচ করেছেন এই অর্থগুলো।

৬৬.১১ কোটি টাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকার সময়ে খরচ করেছেন।

২০৫.৫২ কোটি টাকা জলাবদ্ধতা দূর করতে মেয়র থাকার সময়ে খরচ করেছেন মনজুর আলম।

৫২.৫৩ কোটি টাকা জলাবদ্ধতা দূর করতে গত দুই বছরে খরচ করেছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সিটি করপোরেশনের বাজেট বই ও বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে ২০০৩-০৪ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থবছর পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় হয় ৬৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে ২০১০ সালের ১৭ জুনের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মনজুর আলম। তাঁর মেয়াদে ব্যয় হয় ২০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরে খরচ করেছেন ৫২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সময় সিটি করপোরেশন নালা-নর্দমা ও প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণে ৮২ কোটি ৮২ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং নালা-নর্দমা ও খাল থেকে মাটি অপসারণে ২১ কোটি ৯৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়।

যখন নাগরিক দুর্ভোগ চরমে ওঠে তখন লোক দেখানোর জন্য সব মেয়রই খাল খননের কাজ শুরু করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি কেনেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের প্রবীণ অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ সিকান্দার খান। তিনি বলেন, ৩২৪ কোটি অনেক টাকা। এই টাকা পরিকল্পিত উপায়ে খরচ করা হলে নগরবাসী সুফল পেত।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে ওই টাকা খরচ হয়নি। রুটিন কাজ করেই দায় সেরেছে সিটি করপোরেশন।

সাবেক ও বর্তমান মেয়র কে কি বলছেন

মহিউদ্দিন চৌধুরী

জলাবদ্ধতা দূর করতে আপনার আমলে ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল। এটি বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এ প্রশ্নের জবাবে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সিডিএর। তবে আমার আমলে নগরে জলাবদ্ধতা প্রকট ছিল না। কারণ, কর্ণফুলীতে পানির ধারণক্ষমতা তখন বেশি ছিল। খাল-নালা পরিষ্কার রেখেছিলাম।

তিনি যোগ করেন নিয়মিত ড্রেজিং করে কর্ণফুলীর গভীরতা বাড়াতে হবে। নদীর আশপাশে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। নগরের সব খাল নিয়মিত খনন এবং রাস্তার পাশে নালার গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়াতে হবে। জলাশয়, ডোবা ও পুকুর ভরাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা নালা-নর্দমার মাধ্যমে খাল ও নদীতে চলে যাচ্ছে। ময়লা ব্যবস্থাপনায় নজরদারি দুর্বল মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে।

মনজুর আলম

দায়িত্ব পালনের সময় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বহদ্দারহাটের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প একনেকেও অনুমোদন হয়। তবে মেয়াদের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেননি বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁর আগের কোনো মেয়র উদ্যোগ নেননি।

তার পরামর্শ সমস্যা সমাধানের জন্য ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এটি প্রণয়নের পর অনেক সময় চলে গেছে। এখন এই মহাপরিকল্পনাকে সংশোধন ও পরিমার্জন করতে হবে। সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে সিডিএ, বন্দর, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

আ জ ম নাছির উদ্দিন

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে কবে এই প্রশ্নের উত্তরে বর্তমান মেয়র বলেন,

এই জলাবদ্ধতা এক দিনে তৈরি হয়নি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল, নালা-নর্দমা দখল করে স্থাপনা তৈরির কারণে ধীরে ধীরে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে জন্য সময়ের প্রয়োজন। অর্থেরও দরকার। সবাই মনে করে, জলাবদ্ধতা নিরসন করবে সিটি করপোরেশন। কিন্তু করপোরেশনের সে অর্থ ও জনবল আছে কি না, সেটি কেউ বিবেচনা করে না।

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। অতীতে সিটি করপোরেশন এটি কেন বাস্তবায়ন করেনি জানতে চাইলে তিনি বলেন,

‘আমার আগের মেয়ররা কেন করেননি, তা ওনারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। বিষয়টির সমাধান করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সাত-আট হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।’

তিনি আরো যোগ করেন,

‘নগরের ৩৪টি খাল রয়েছে। সব খালই কমবেশি দখল হয়েছে। খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করার জন্য এস্টেট (ভূসম্পত্তি) বিভাগ কাজ করছে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা করা হবে। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

আসলে সমাধান কোথায়

মহাপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি নতুন প্রাইমারি (মূল) এবং ১৫টি নতুন সেকেন্ডারি (শাখা) খাল খনন, বিদ্যমান মূল ও শাখা খালগুলোর সংস্কার এবং অপদখলমুক্ত করা, কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত খালগুলোর মুখে ৩৬টি টাইডাল রেগুলেটর (জোয়াররোধক ফটক) স্থাপন, পাহাড়ি বালু ঠেকাতে বিভিন্ন খালে ১৯টি সিলট্র্যাপ (বালুর ফাঁদ), বৃষ্টি বা জোয়ারের পানি সংরক্ষণের জন্য আটটি জলাধার সংরক্ষণ করার প্রস্তাব ছিল মহাপরিকল্পনায়। নগরীর কোন কোন এলাকায় এসব করতে হবে, তারও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এতে।

শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে বন্দরনগরীকে বাসের উপযোগী রাখতে দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন সিটি মেয়র সহ বিশিষ্টজনেরা। বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের নাগরিক জীবনে এক অভিশাপের নাম জলাবদ্ধতা। সেই সাথে নেই সুষ্ঠু পয়নিস্কাশন ব্যবস্থাও। তবে দেরিতে হলেও এবার এই কাজে হাত দিয়েছে ওয়াসা। জানা গেছে দেশী বিদেশী দুটি প্রতিষ্ঠানের দুই বছরের চেষ্টায় খসড়া ড্রেনেজ এবং স্যানিটেশন মাস্টারপ্ল্যান তৈরী হয়েছে। যার ড্রেনেজ অংশের বাস্তবায়ন করবে সিটি কর্পোরেশন এবং স্যানিটেশন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। দুই ধাপে এই মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

বর্তমান মেয়র মনে করেন জলাবদ্ধতা এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য, সমাধান সম্ভব। তবে জোয়ার, জলোচ্ছ্বাস থেকে নগরীকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। সিটি গভর্নমেন্টের বিকল্প নেই মন্তব্য করে মেয়র বলেন, জিম্মি রেখে সমন্বয় হবে না। ওয়াসা, কণর্ফুলী গ্যাস, বিদ্যুৎ, টিঅ্যান্ডটিসহ অনেক প্রতিষ্ঠান রাস্তা কাটছে। একই রাস্তা একাধিকবার কাটা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন একে অন্যকে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসবে সকলকে। তাদের মতে পরিকলপনা মাফিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই এই সমস্যা সমাধানের।

মন্তব্য করুন

comments