চীনকে পেছনে ফেলে ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

423
শেয়ার

তৈরি পোশাক রফতানি বাণিজ্যে বড় খাত হয়ে উঠছে ডেনিম বা জিন্সের কাপড়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৮ দেশে ডেনিম রফতানিতে চীনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশই এখন প্রধান রফতানিকারক দেশ।

বিজিএমইএর গবেষণা সেল এবং ইইউর পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ পঞ্জিকা বছরে ইইউতে ডেনিম রফতানিতে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। আগের বছরের তুলনায় রফতানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। মোট ১২৯ কোটি ডলারের ডেনিম রফতানি হয়েছে।

আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ১১৮ কোটি ডলার। পোশাক বাণিজ্যে দাপুটে চীন ডেনিম রফতানিতে শীর্ষ অবস্থান হারিয়েছে। ইইউতে ডেনিম রফতানিতে চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে চীন। ইইউতে দেশটির ডেনিম রফতানি কমেছে আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি।

বাংলাদেশ এবং চীনের মাঝখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দুই দেশ যথাক্রমে তুরস্ক ও পাকিস্তান। ইইউতে ডেনিমের গত বছরের বাজার ছিল ৪৮৩ কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় বাজার বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

অবশ্য একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রফতানিতে এখনও চীনের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রফতানিতে বাংলাদেশ এখনও তৃতীয়। প্রচলিত এ দুই বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজারেও ডেনিম রফতানি বাড়ছে। নন ডেনিম (ডেনিম নয় এমন সাধারণ পোশাক) রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং ইইউ জোটকে হিসাবে ধরলে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

সাম্প্রতিক বছরে দেশে ডেনিম পণ্যের কাপড় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। এতে আমদানি পর্যায়ে সময় ব্যয় না হওয়ায় রফতানিতে লিডটাইম (রফতানি আদেশ পাওয়ার পর ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানোর সময়) কম লাগছে। ফলে ডেনিম রফতানি বাড়ানোর সুযোগ তুলনামূলক বেশি। ফ্যাশনদুরস্ত ডেনিমের দামও তুলনামূলক বেশি। ডেনিমের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের পোশাক বাজারে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

চাহিদা বাড়তে থাকায় সম্প্রতি পাট থেকে ডেনিম কাপড় তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাট ও তুলার মিশ্রণে তৈরি করা সুতা থেকে বানানো হবে ডেনিম কাপড়। এ উদ্যোগ বাংলাদেশকে ডেনিমের বিশ্ববাজারে আরও এক ধাপ এগিয়ে রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অবশ্য ইইউতে শীর্ষস্থান দখল করলেও একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রফতানিতে খুব ভালো করতে পারছে না বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষ স্থান অক্ষুণ্ণ আছে চীনের। তবে আলোচ্য বছরে চীনেরও রফতানি কমেছে ৩৬ শতাংশ। ইউনাইটেড স্টেট ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের (ইউএসআইটিসি) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রফতানির সর্বশেষ হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। আলোচ্য সময়ে রফতানি কমেছে ৩১ শতাংশেরও বেশি। রফতানি হয়েছে ২৯ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আগের বছরের রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ডলার।

অবশ্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম চাহিদা কমেছে ৩৭ শতাংশেরও বেশি। বাজার নেমে এসেছে ২৩২ কোটি ডলারে। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৩৭০ কোটি ডলার। সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশ হারে রফতানি কমলেও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে মেক্সিকো। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৬ কোটি ডলারের ডেনিম রফতানি করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রফতানিতে চতুর্থ অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের রফতানি বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেনিমের বাজার বাড়াতে এখন বড় সমস্যা হচ্ছে, দেশে চাহিদামতো ডেনিম উৎপাদন হচ্ছে না। মাত্র ২৫টি কারখানা ডৈনিম কাপড় তৈরি করছে। এসব কারখানার গড় উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৩৬ কোটি গজ। অন্যদিকে ৫৩১টি কারখানা ডেনিম কাপড় থেকে পোশাক উৎপাদন করছে। এসব কারখানার বছরে চাহিদা দেশে উৎপাদিত ডেনিমের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৭২ কোটি গজ। চাহিদার বাকি ডেনিম কাপড় ভারত, চীন, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২১ সালে ডেনিমের চাহিদা ১২০ কোটি গজে পৌঁছবে। বেড়ে চলা এ ডেনিমের চাহিদা অনুযায়ী জোগানে বড় সুযোগ হতে পারে পাট থেকে ডেনিম কাপড় তৈরির সরকারি উদ্যেগ।

সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। প্রকল্পটি মূল্যায়ন শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উপস্থাপন করবে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাট ও তুলার মিশ্রণে তৈরি করা সুতা থেকে বানানো হবে ডেনিম কাপড়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পাট গোটা অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাটের সুতায় বিশ্বমানের উচ্চমূল্যের ডেনিম পোশাক উৎপাদনের অপেক্ষায় আছেন উদ্যোক্তারা। উৎপাদন ব্যয় কমলে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়বে তৈরি পোশাক খাতের।

মন্তব্য করুন

comments