অলৌকিক! লঞ্চডুবির ১৩ ঘন্টা পর একজনকে জীবিত উদ্ধার

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ ডুবির ১৩ ঘন্টারও বেশি সময় পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন একজন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাতে যখন লঞ্চটিকে পানির নিচ থেকে ওঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল তখনই ভেসে ওঠেন একজন। তার নাম সুমন বেপারি। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ির আব্দুল্লাহপুরে। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি পুরান ঢাকার বাদামতলীতে ফলের দোকানে কাজ করেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

সকাল নয়টার কিছু পর লঞ্চ ডোবে। আর রাত সোয়া দশটার দিকে উদ্ধার হন সুমন। লঞ্চের ভেতর থেকে তিনি বের হন বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। তিনি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সজল বেপারীর ছেলে। সুমন পেশায় ফল ব্যাবসায়ী। তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান। চোখের ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করেন।

সোমবার সকালে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের লঞ্চ ‘ময়ূর-২’ মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে আসা ছোট লঞ্চ ‘মর্নিং বার্ড’কে ধাক্কা দিলে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি পানিতে ডুবে যায়। এরপর সারাদিন কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, নৌবাহিনী যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একে একে ৩২টি মরদেহ উদ্ধার করে। অভিযানের প্রায় শেষ দিকে ১৩ ঘন্টা পর ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করার সময় লঞ্চের ভেতরে আটকা পড়ে বেঁচে থাকা সুমন ব্যাপারীকে উদ্ধারের তথ্য জানায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইনের মতে, পানির নিচে দীর্ঘ সময় সুমনের বেঁচে থাকাটা ‘আলৌকিক’ একটা ব্যাপার।

তিনি বলেন, “এটা সত্যিই আলৌকিক। উনি নিশ্চই অক্সিজেন আছে এমন কোনো রুমে আটকা পড়েছিলেন। তাঁর বেঁচে থাকার পেছনে এটাই একমাত্র বৈজ্ঞানিক কারণ বলে মনে হয়েছে।”

তবে এভাবে লঞ্চের ভিতর বেৎচে থাকা নতুন নয়। এর আগে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় দুই ব্যক্তি এবং নারায়ণগঞ্জে একটি ডুবন্ত বলগেট থেকে এক ব্যক্তিকে জীবন্ত উদ্ধার করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

comments