হাসপাতালের বদলে পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন অসুস্থরা

বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে জ্বর-সর্দি নিয়ে মানুষ বর্তমানে আতঙ্কিত। অনেকেই ঘরে বসে সাধারণ প্যারাসিটামল খেয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বিষয়গুলো কারও সঙ্গে শেয়ার করছেন না। চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারও বন্ধ। মানুষের জ্বর সর্দি ও গলা ব্যথা নিয়ে তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও কম। বেসরকারি হাসপাতালে জ্বর, সর্দি নিয়ে কাউকে ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে না গিয়ে অসংখ্য মানুষ পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে। হাসপাতালে গিয়ে হয়রানির শিকার হবেন এই আশঙ্কায় অনেকেই পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন। এই সংক্রান্ত সহযোগিতা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ নিয়ন্ত্রিত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ প্রতিদিন মানুষ ফোন দিচ্ছে। জাতীয় জরুরি সেবার কর্মীরাও মানুষকে সাধ্যমত সহযোগিতা করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ জ্বর সর্দি ও কাশি নিয়ে একাধিক হাসপাতালে ঘুরছে এমন নজিরও রয়েছে। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দিচ্ছে পুলিশ।

শরীরে করোনার সব উপসর্গ থাকলে তারা কোথায় যোগাযোগ করে নমুনা পরীক্ষা করাতে দিতে পারেন সে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে হটলাইনে ফোন করে। পুলিশ আইইডিসিআর থেকে নমুনা সংগ্রাহকদের নিয়ে এসে নমুনা সংগ্রহ করাতে সাহায্য করছেন। জাতীয় জরুরি সেবার পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে ৮১ হাজার ৭৫৯টি কল এসেছে। এর মধ্যে করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিয়েছেন ৭৬ হাজার ২৪২ জন কলার। ৫ হাজার ৫১৭ জন পুলিশের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে সেবা নিয়েছেন।

জানা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ করোনাভাইরাসের উপসর্গ, চিকিৎসা, নিকটস্থ হাসপাতালে কোথায় চিকিৎসা হয়, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, হোম কোয়ারেন্টিনে কতদিন থাকতে হবে এবং নিত্যপণ্য চেয়ে জাতীয় জরুরি সেবাতে ফোন দিচ্ছেন। জাতীয় জরুরি সেবা এসব বিষয়ে মানুষকে তথ্য সরবরাহ করছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে যেসব পুলিশ সদস্যকে গিয়ে নাগরিকদের সেবা দিতে হবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। এজন্য বেগ পেতে হচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবার কর্মীদের। কারণ সন্দেহভাজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স তুলতে চান না চালকরা। অনেকে নিতে চাইলেও যথাযথ পিপিই না থাকায় সার্ভিস দিতে পারছেন না বলে জানান জাতীয় জরুরি সেবার পুলিশ কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ করার শর্তে এক রোগীর অভিভাবক বলেন ‘পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা এবং অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে পেয়েছি। আমার রোগীর জ্বর থাকায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সেই তুলতে চাইছিল না। পরে ৯৯৯ এর সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছি। রোগীকে হাসপাতালও ভর্তি করেছে। পুলিশের সহযোগিতায় সব সহজ হয়েছে।’

গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে (২৩) কে হাসপাতালে নিয়েছেন বাকলিয়া থানা পুলিশের সাহায্য নিয়ে। করোনা পরিস্থিতির কারণে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় গাড়ি পাচ্ছিলেননা তিনি। পরে নিরুপায় হয়ে ফোন করেন বাকলিয়া থানার পুলিশের হটলাইন নম্বরে। বিষয়টি জানার পর থানা থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি। ওই গাড়িতে প্রসববেদনায় কাতর মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান হোসনে আরা বেগম।

প্রসঙ্গত, জরুরি প্রয়োজনে ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসদাই চেয়ে কেউ ফোন করলে তা বাসায় পৌঁছে দেবে পুলিশ। ইতমধ্যেই সিএমপি ‘ডোর টু ডোর শপ’ নামে একটি সেবা চালু করেছে। এই সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ তা বাসায় গিয়ে পৌঁছিয়ে দিবে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ ফোন করলে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালেও পৌঁছে দেওয়ার কাজও করবে পুলিশই।

করোনভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না। আইইডিসিআর’র তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দেশে ৫৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২৬ জন।

মন্তব্য করুন

comments