হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীরা হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহ শুরু করেছে। শুক্রবার হালদার ডিম সংগ্রহকারীরা গত ১২ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ডিম আহরণ করেছে। রেকর্ড পরিমাণ ডিম আহরণের পর হালদার দু পাড়ের ঘরের ঘরে চলছে ‘ঈদ আনন্দ’। হালদা পূরনো রূপে ফিরে যাওয়া খুশি ডিম আহরণকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই হালদা হারানো যৌবন ফিরে পাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫৬০ জন ডিম সংগ্রহকারীরা ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন।

হালদা নদীর হাটহাজারী থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে শত শত ডিম সংগ্রহকারী নদীতে ডিম সংগ্রহ করতে শুরু করেন। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন নদীতে অবস্থান করে ডিম সংগ্রহে তদারকি করেন।

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মাছ যখন ডিম ছাড়তে শুরু করে, নদীতে তখন ভাটা চলছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মাছেরা নদীতে নমুনা ডিম ছাড়ে। ডিম আহরণকারীরা নৌকা নিয়ে নদীতে অপেক্ষায় ছিলেন বিকেল থেকেই।

ইউএনও রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। এখন সংগ্রহকারীরা ছোট ছোট নৌকায় তাদের নিজস্ব কৌশলে ডিম সংগ্রহ করছেন। একইসঙ্গে এসব ডিম থেকে নদী পাড়ে হ্যাচারিগুলোতে রেণু ফোটানোর কাজও শুরু হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ২৮০টি নৌকায় ৫৬০ জন ডিম সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছে। এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদীতে কাতলা, রুই, মৃগেল, কালবাউশ জাতের মা মাছ নির্ধারিত মৌসুমে ডিম ছাড়ে। নদীর দুইপাড়ে মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের জন্য বংশ পরম্পরায় অভিজ্ঞ জেলেরা অপেক্ষা করে থাকেন।

মন্তব্য করুন

comments