মারুফ আত্মহত্যার ঘটনায় এসআই হেলাল বরখাস্ত

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার বাদামতলী বড় মসজিদ এলাকায় সালমান ইসলাম মারুফ নামে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই হেলাল খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মারুফের আত্মহত্যার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। এতে মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই হেলাল খানের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কমিটি। তাছাড়া অধীনস্ত অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ দাশকে শোকজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ওই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই ডবলমুরিং থানার এসআই হেলালকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫ টার পর সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানকে ১৬ পৃষ্টার এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। 

সিএমপির সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তসহ মোট ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ঘটনার দিন এসআই হেলাল খান থানার ওসিকে অবগত না করে সেখানে বেআইনিভাবে অভিযানে যাওয়ার সত্যতা মিলেছে। এছাড়া তিনি পুলিশি পোশাকেও ছিলেন না।

কর্মকর্তাদের অগোচরে সাদা পোশাকে আগ্রাবাদের বড় মসজিদ গলিতে গিয়ে কিশোর সালমান ইসলাম মারুফের পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন এসআই হেলাল উদ্দিন।

উলেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এসআই হেলালের হাতে ওই কিশোরের মা-বোন লাঞ্চিত হওয়ার অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে মারুফ।

বৃহস্পতিবার রাতে সাদা পোশাকে ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে অভিযানে গিয়েছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। সেখানে মারধরের পর কিশোর মারুফের বোন আহত হলে মাসহ তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়, এরপর বাসা থেকে মারুফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত মারুফ স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়ার খরচ চালাতে স্থানীয় একটি মার্কেটের এক দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

এ ঘটনার পর মৃতের স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসআই হেলাল দুই সোর্সকে সঙ্গে নিয়ে মারুফকে মারধর করে, তার কাছ থেকে টাকা দাবি করে এবং তাকে আটকের চেষ্টা করে। তখন তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেয়।

পুলিশের দাবি, এ পর্যায়ে মারুফের মা ও বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। তবে বাড়িতে ফিরে মা-বোনকে না দেখতে পেয়ে আটক করা হয়েছে ভেবে আত্মহত্যা করে মারুফ। 

এরআগে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে এসআই হেলালকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

নিহত মারুফের স্বজনদের দাবি, কিছুদিন আগে তার বাসা থেকে সাইকেল ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই লোক গিয়ে মারুফের বাসায় উঁকি দিচ্ছিলেন। এসময় মারুফ তাদের ‘চোর চোর’ বলে ধরে ফেলেন।

এরপর এসআই হেলাল পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে মারুফকে মারধর করেন এবং থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং টাকা দাবি করে। মারুফের মা ও বোন পুলিশকে বাধা দেন।

যে দুই জন বাসায় উঁকি দিয়েছেন, তারা নিজেদের পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেন। আর তাদের সাথে থাকা এসআই হেলাল ছিলেন সাদা পোশাকে।

এদিকে, এ ঘটনার পরই এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন

comments