ব্যাংকে মানুষের ভীড়; নিষেধ মানছেনা কেউ

করোনা আতঙ্কে নগরী আস্তে আস্তে ফাঁকা হতে শুরু হলেও ব্যাংকগুলোতে কমছেনা মানুষের আনাগোনা। বাংলাদেশ যখন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে, ঠিক এমন সময়ে নগরীর ব্যংকগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখে আতঙ্ক বিরাজ করছে সচেতন মহলে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে ক্ষোভ। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাট এলাকার ব্যাংকগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শত শত মানুষের সমাগম। কেউ এসেছেন বিদ্যুৎ বিল দিতে, কেউ গ্যাস বিল দিতে, কেউ টাকা তুলতে, কেউ বা দেখতে এসেছেন, আবার অনেকে এসেছেন আতঙ্কে। যদিও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা চিন্তা করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল দেয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা শিথিল করেছে সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের গ্যাস বিল জুন মাসের যেকোনো দিন জরিমানা ছাড়াই গ্রাহকরা পরিশোধ করতে পারবেন বলে ঘোষনা দিয়েছে সরকার। এছাড়া ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিলের সারচার্জ বা বিলম্ব মাশুল আদায় না করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এসব বিবেচনায় না এনে ব্যাংকে এসে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। এদের মধ্যে করোনা সম্পর্কে অনেকের নেই তেমন কোন ধারনা। প্রশাসন থেকে চায়ের স্টলে আড্ডা, রাজনৈতিক মিছিল সমাবেশ, ধর্মীয় সভা, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ গণজমায়েত ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগনকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও সেটা মানছেননা অনেকেই। ব্যাংকে আসা মবিনুল হক নামের একজন বলেন, ‘বড় ভাই টাকা জমা দিতে এসেছে। আমি সাথে এমনিতে এসেছি।’ করোনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটু পরেই চলে যাবো।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকে আগত আরেক ব্যাক্তি বলেন, ‘করোনার বিষয়ে জানি, তবে লেনদেন হয়ে গেলে চলে যাবো। করোনা তো আমাদের এখানে এখনো আসে নাই। এত ভয় পাওয়ার কি আছে। করোনা বিদেশে হয়। আমাদের এখানে হবে না। আল্লাহ্ নিয়ে গেলে কিছু করার নাই।’ এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক কালুরঘাট শাখার কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। দিন শেষে আমরাও পরিবারের কাছে ফিরে যাই। কার মধ্যে কি আছে তাতো আর জানিনা আমরা। আগত গ্রাহকদের বার বার নিষেধ করলেও শুনছেননা কেউই। তাদেরকে বার বার বলা হচ্ছে যে তারা যেন একটু দূরত্ব নিয়ে লাইনে দাঁড়ায়, কিন্তু এটা বলার পর তারা উত্তেজিত হয়ে যায়।’ নগরীর প্রায় সব ব্যাংকেরই মোটামুটি একই চিত্র। অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ফরহাদ জামান নামে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক-এর এক কর্মকর্তা ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেন ‘গ্রাহকদের কোনোরকমে বোঝাতে সক্ষম হচ্ছি না ভাই প্লিজ আপনি নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে কথা বলুন, যদি প্রবাসী হয়ে থাকেন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ করে আসুন। কেউ কারো কথা শুনছেই না। আপনারা নিজদেরকে শেষ করছেন, আমাকে, আমাদের পরিবার এবং সমাজকে শেষ করে দিচ্ছেন। আল্লাহ্‌ আমাদের সহায় হোক।’ ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। বেশি সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকাকে লকডাউন করা হয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত আরও কিছু এলাকা লকডাউন করা হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরকার ২৬শে মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে সাধারণ ছুটির মধ্যেও ব্যাংক খোলা থাকবে। ছুটির মধ্যে সীমিত সময়ের জন্য নগদ লেনদেন চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, সাধারণ ছুটির মধ্যে দপুর ১২টা পর্যন্ত ক্যাশ লেনদেন চলবে। ব্যাংক বন্ধ হবে দেড়টায়। এ সময় ব্যাংকের ক্যাশ সংশ্লিষ্ট কর্মীরাই কেবল কর্মস্থলে থাকবেন। এ সময় কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, খাবারের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রির দোকান ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সব ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে নামাজ পড়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহন সীমিতভাবে চলাচল করলেও তা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনাভাইরাস যতটা ভয়ের, তার চেয়ে বেশি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর সংক্রমণের শঙ্কা। এর প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত না হওয়ার কারণে এ ভাইরাস মোকাবেলায় সচেতন হওয়াই সর্বোত্তম পন্থা। এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হারও কমবে। মানুষদের দ্রুত করোনা মোকাবেলায় সচেতন করা না হলে দ্রুত মহামারী আকার ধারন করবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা। প্রয়োজন শুধু প্রত্যেককে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সচেতন হওয়া, স্বাস্থ্য নির্দেশাবলী মেনে চলা এবং সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

মন্তব্য করুন

comments