পুলিশের হাতে মা-বোন লাঞ্ছিত, অপমানে কিশোরের আত্মহত্যা

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় মা বোনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে শুনে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। কিশোরের নাম সালমান ইসলাম মারুফ (১৪)। এ ঘটনার জেরে ডবলমুরিং থানার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হেলালকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। রাতে মারুফ বাদামতলী এলাকায় তার চাচার ঘরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

স্থানীয়রা জানায়, আগ্রাবাদের বাদামতলি মসজিদ গলির মারুফের বাড়ির পেছনে পুলিশের এক সোর্সকে ঘোরাফেরা করতে দেখে মারুফসহ কয়েকজন যুবক চোর ভেবে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে সেখানে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য হেলাল এসে ধরপাকড় শুরু করলে মারুফ পালিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ তাকে না পেয়ে তার বাসায় ভাঙচুর চালায় এবং তার মা-বোনকে আটক করে নিয়ে যায়। বিষয়টি মারুফ সহ্য করতে না পেরে চাচার ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করে।

মারুফের স্বজন ও এলাকাবাসীরা বলছেন, এসআই হেলাল মারুফের মা-বোনকে লাঞ্চিত করাই এমন ঘটনার ঘটেছে। মা-বোনের অপমানিত হওয়া এবং থানায় নিয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেনি মারুফ। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।

তবে পুলিশ বলছে, মারুফের মা বোনকে আটক করা হয়নি। অভিযানের সময় মারুফের বোন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলো পুলিশ। 

এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশের অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল খানকে ক্লোজ করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির।

এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ও ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। এ কমিটিকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে মারুফের আত্মহত্যার বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments

আগের সংবাদচট্টগ্রামে নতুন ১৫৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট শনাক্ত ১২৪৮৯
পরের সংবাদঢাবির সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দীন আর নেই