দক্ষিণ-পশ্চিমের দুই নৌরুটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁঁকি নিয়েই আবার চলাচল শুরু হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই নৌরুটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে আজ। গতকালও দিনভর ছিল রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। করোনা সংক্রমণের মধ্যেই ফেরিতে গাদাগাদি করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটছেন হাজার হাজার মানুষ।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ভেঙে ভেঙে যাত্রীরা এসে হাজির হচ্ছেন কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। সরেজমিনে দেখা যায়, লঞ্চ-স্পিডবোট, ট্রলার বন্ধ থাকায় ফেরিই এখন একমাত্র পারাপারের অবলম্বন। তাই গাদাগাদি করে হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ গত ২৬ মে থেকেই বাড়তে শুরু করে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকামুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। এদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া নৌরুটে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানার সুযোগ হচ্ছে না যাত্রীদের।

এছাড়া শিমুলিয়া থেকে অতিরিক্ত ভাড়া ও গাদাগাদি করে যাতায়াতের ব্যাপারেও দায়িত্বশীলরা কিছুই জানেন না। শুক্রবার (২৯ মে) গাড়ি পাওয়া দুস্কর ছিল। যাদের অতিরিক্ত ভাড়া দেয়ার অবস্থা নেই, তারা লাগেজ নিয়ে পায়ে হেঁটে ঢাকায় রওনা হয়েছে। গাদাগাদি করে যাত্রী উঠিয়ে ৪-৫ গুণ বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে বড় ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করেও যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেও একই অবস্থা দেখা গেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘাট পার হয়েছে। অনেকেই মাস্ক পরেনি। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরিগুলোকে ধীর গতিতে চলতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগছে। এ কারণে দুই পাড়েই গাড়ি ও যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ভাড়ার গাড়ি ও ইজিবাইকে ফেরিঘাটে আসছেন। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থল ছুটছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা। ফেরিতে যাত্রী প্রতি ২৫ টাকা এবং মোটরসাইকেল থেকে ৭০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সব ক্ষেত্রেই ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

comments