তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা | যেভাবে দেখতে যাবেন

দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই পঞ্চগড়। শীতপ্রবণ এই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া গেলেই দেখা মিলবে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ পর্বতমালা কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ। অদূরে চোখে পরবে হিমালয় এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী রূপ! প্রকৃতিপ্রেমী এবং ভ্রমন পিপাসুদের জন্য খুবই আকর্ষনীয় জায়গা এই কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ। আজকে আমরা গল্প করবো পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দৃশ্যমান তৃতীয় বৃহৎপর্বতমালা কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ নিয়ে। চলুন জেনে নেই কিভাবে যাবেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গটিতে।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ

কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ পর্বতশৃঙ্গ। এই পর্বতমালাটির উচ্চতা ২৮,১৬৯ ফুট। বাংলাদেশ এবং ভারত সীমান্তের বুক দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মহানন্দা নদী। এ নদীর তীর থেকেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গটির অপূর্ব দৃশ্য। কিন্তু কয়েকবছর ধরেই তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই দেখা মিলছে এই অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা পর্বতশৃঙ্গটির। তেঁতুলিয়ার উপজেলা সদরে কোচবিহারের রাজার নির্মিত একটি ঐতিহাসিক ডাকবাংলো রয়েছে। ভিক্টোরিয়ান ধাঁচে বানানো এই ডাকবাংলোটি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রনে আছে। বাংলোর পাশেই জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি পিকনিক স্পট তৈরি করা হয়েছে। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই  ডাকবাংলোটির বারান্দা থেকেই হেমন্ত ও শীতকালে উপভোগ করতে পারেন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপার সৌন্দর্য। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোটির বারান্দা থেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা একটু কালচে দেখায় তারপর আস্তে আস্তে টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ এবং সাদা রং ধারণ করে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা

কখন যাবেন

কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গটির দেখা সারাবছর মিলে না। স্থানীয়দের মতে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামঝি সময়ে আকাশ মেঘহীন থাকে আর এই সময়টাতেই দেখা যায় পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ পর্বতমালাটি। বরফে ঢাকা অসাধারণ এই পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে চাইলে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামঝি সময়ে যেতে হবে। এই সময়গুলোতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলবে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে  ঘেরা কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গটির।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে বেশকটি বাস রয়েছে। নন-এসি বাসগুলোর মধ্যে হানিফ এবং নাবিল পরিবহণ করে পঞ্চগড় যেতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাড়া হবে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত সরাসরি কোন এসি বাস নেই। এসি বাসে করে যেতে চাইলে প্রথমে রংপুর যেতে হবে। এসি বাসগুলোর মধ্যে টি আর ট্রাভেলসগ্রীণলাইন এবং আগমণি দিয়ে  রংপুর যেতে পারেন। এসি বাসগুলোর ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। রংপুর থেকে অন্য পরিবহণে পঞ্চগড় যেতে পারেন।

পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে সারাদিনই বেশকিছু বাস চলাচল করে। এক্ষেত্রে বাস ভাড়া জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা হবে। আপনি চাইলে ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়ায় সরাসরি বাসে করে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে হানিফ এবং বাবুল পরিবহণে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় তেঁতুলিয়ায় যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

পঞ্চগড়ে বেশকিছু থাকার হোটেল রয়েছে। এগুলো খুব সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল। এসব হোটেল গুলোতে নন-এসি রুমগুলো ৩০০-৭০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। আর এসি রুমগুলো ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও মহানন্দা নদীর কাছে রয়েছে ৩টি ডাকবাংলো। সবচেয়ে ভালো হয় এই বাংলোগুলোতে থাকতে পারলে। এই বাংলোগুলোতে থাকতে হলে আগে থেকেই তেঁতুলিয়া উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। এসব বাংলোর রুমের ভাড়া হচ্ছে ৪০০ টাকা করে। এছাড়াও রয়েছে বনবিভাগের রেস্ট হাউজ। এই রেস্ট হাউজে থাকতে চাইলে জেলা সদর অথবা তেঁতুলিয়ার বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরেও জেলাপরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে। অনুমতি নিয়ে এখানে থাকতে হবে এবং রুম ভাড়া পরবে ২০০ টাকা।

হাজার বছরের গৌরব-গাথা ও প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতিমণ্ডিত পঞ্চগড়। পর্যটকদের জন্য সব ব্যবস্থা থাকায় ও এই জেলার অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে দিন দিন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পঞ্চগড় খুবই আকর্ষনীয়। পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ এবং ব্যস্থতাপূর্ণ জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য হারিয়ে যান প্রকৃতির বুকে।

মন্তব্য করুন

comments

আগের সংবাদচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী যানজটমুক্ত যাতায়াত অবকাঠামো ও শিক্ষণবান্ধব পরিবেশ
পরের সংবাদচট্টগ্রামের বিখ্যাত আখনি বিরিয়ানি তৈরির রেসিপি