ঢাকার বাতাসের মানের উন্নতি

যানবাহনের কালো ধোঁয়াসহ নানা কারণে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান সবসময় নিচের দিকে থাকত। তবে স্বস্তির খবর হলো, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) বাংলাদেশের রাজধানীর বাতাসের মানের তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সকালে ৯১ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ২০তম অবস্থানে ছিল ঢাকা শহর। যদিও, গত ২৮ এপ্রিল ১৬৩ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয় খারাপ অবস্থানে ছিল জনবহুল এ শহর।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা জানায়। একিউআই স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান ‘গ্রহণযোগ্য’ বলে ধরে নেওয়া হয়।

করোনার প্রকোপের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে বাতাসের মান কিছুটা ভালোর দিকে যায়। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা সন্তোষজনক বলে দাবি করছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের।

তাদের তথ্যানুযায়ী, আজ ৩ মে বিকালে ঢাকায় বায়ুর মান ৮৫ এবং পিএম ২.৫। এ সময় ঢাকার এই বায়ুমান গ্রহণযোগ্য বা ভালো। বায়ুর এই মান মানুষের ক্ষতি করে না। যদিও গত কয়েকদিন আগে বায়ুর মান ক্ষতিকারক ছিলো।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বায়ুমান মনিটর বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রা পরিমাপ করে। একে সাধারণভাবে বলা হয় পিএম ২.৫। আর বর্তমানে ঢাকায় দূতাবাস প্রাঙ্গণের বস্তুকণাগুলোর ব্যাস ২ দশমিক ৫ মাইক্রন বা তার চেয়েও ছোট।

গত মার্চের শেষের দিকে যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় সেদিন সকালে ঢাকার বাতাসের ছিল ১৪৪ এবং পিএম ২.৫। সে হিসেবে বেশ ভালো অবস্থানে এসেছে ঢাকার বাতাস।

গড় বায়ুদূষণে এখনও বাংলাদেশ শীর্ষে। এখানে গড় বায়ুদূষণের হার ৮৩ দশমিক ৩০। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম বায়ুদূষণ ৬৫ দশমিক ৮১ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান, ৬২ নিয়ে তৃতীয় স্থানে মঙ্গোলিয়া। ৫৮ দশমিক ৮০ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আফগানিস্তান এবং ৫৮ দশমিক ০৮ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত।

আইকিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে সাধারণ নগরবাসী বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

জনবহুল ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাস নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। মূলত নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণহীন ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা প্রভৃতি কারণে রাজধানীতে দূষণের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্ষা মৌসুমে দূষণ কিছুটা কমে।

মন্তব্য করুন

comments

আগের সংবাদএকজনও যাতে অভুক্ত না থাকে সেই ভিশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি-সিটি মেয়র
পরের সংবাদনাইকো মামলায় বাংলাদেশের জয়, ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ৮০০০ কোটি টাকা