নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নির্ধারিত ১৮০ দিন সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয় বলে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবরে পাঠানো এক চিঠিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইসি তাদের এই অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। চিঠিতে করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাহাড় ধসের আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ইসির এই চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ৫ আগস্টের পরে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে অর্থাত্ প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনানুযায়ী কোনো করপোরেশনের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আ জ ম নাছির চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১৫ সালে ৬ অগাস্ট। সে হিসাবে এ সিটির বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৫ অগাস্ট। 

মেয়াদপূর্তির ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে ২৯ মার্চ ভোটের তারিখ রেখে তফসিলও দিয়েছিল ইসি। কিন্তু মহামারীর কারণে ভোটের সপ্তাহ খানেক আগে ২১ মার্চ তা স্থগিত করা হয়।

এর আগে ইসির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছিল। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী গত ২৯ মার্চ ছিল ভোটের দিন। কিন্তু এর আগে দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ঐ নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া হয়। ঐ একই দিনে বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। ঐ নির্বাচন দুইটি স্থগিত হয়েছিল। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও গতকাল ১৪ জুলাই ঐ দুইটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করপোরেশন ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে ঐ করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না প্রশাসক।

জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, “৫ অগাস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন করা সম্ভব না হলে আমরা নির্বাচন কমিশনের মতামত নেব। তারপর সব কিছু পর্যালোচনা করে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।

মন্তব্য করুন

comments