চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস প্রায় বন্ধ, বাড়ছে জাহাজ-কন্টেইনার জট

করোনা পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার জট তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানিকারকরা পণ্য  খালাস না করায় পণ্যবোঝাই কন্টেইনারে চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। ধারণক্ষমতা প্রায় ছুঁয়ে যাওয়ায় জাহাজ থেকেও নামছে না পণ্য।

একদিকে, বন্দর ইয়ার্ডে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, অপরদিকে বন্দরের জেটি এবং বহির্নোঙরে ২৫টির ও বেশি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর অচল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, বন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হলেও আমদানিকারক কর্তৃক বন্দর থেকে কন্টেইনার খালাসের গতি কম থাকায় বন্দরে কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার কন্টেইনার খালাস হয়। শুক্রবার বন্ধের দিনেও এই সংখ্যা ৩ হাজারের নিচে নামে না। কিন্তু গত ২৬ মার্চ বন্ধের পর থেকে বন্দর থেকে কন্টেইনার খালাস আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে তা দৈনিক এক হাজার থেকে ১২শ’-এ নেমে এসেছে।

তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি, অন্যান্য শিল্পের যন্ত্রাংশ, খাদ্যপণ্য ও ওষুধের কাঁচামালসহ দেশের মোট ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি হয় এই বন্দর দিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর প্রভাবে প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি আয়ের যোগানদাতা তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় এবং কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা পণ্যের তেমন চাহিদা নেই।

পরন্তু মহামারীর কারণে আমদানি পণ্য বন্দর থেকে নেওয়ার জন্য পরিবহনেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং ব্যাংক খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগে বন্দরের কন্টেইনার ডেলিভারি স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল। ছুটি শুরুর পর গত তিন সপ্তাহে ক্রমাগত বন্দর থেকে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারি নেওয়া কমতে থাকে। পণ্যের ডেলিভারি নিতে উৎসাহিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে মাশুল মওকুফ করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বন্দর ব্যবহারকারী ফোরামের সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছু বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে শিল্প কারখানা ও বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে আমদানিকারকরা তাদের কন্টেইনার খালাস করছেন না। আর সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শ্রমিক নিয়োগ করে কন্টেইনার খালাস করে পণ্য গোডাউন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ভোগ্যপণ্যের খালাস স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। যাতে দেশে ভোগ্যপণ্য বা নিত্যপণ্যের কোন সঙ্কট তৈরি না হয়।

মন্তব্য করুন

comments

আগের সংবাদচট্টগ্রামের কোন এলাকায় কতজন করোনা শনাক্ত?
পরের সংবাদব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়ল আধা ঘণ্টা