চট্টগ্রাম নগরীর ১২ থানা রেড জোন, আক্রান্ত এলাকা ৭৩২

ঢাকার পর করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) মূলকেন্দ্র এখন চট্টগ্রাম। মোট আক্রান্তদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি চট্টগ্রাম মহানগরীর। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ২০৮ জনের মধ্যে ১৪৫ জনই নগরীর বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (২ জুন) পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৩১৫১ জন শনাক্ত রোগীর মধ্যে ২৩০০ জন মহানগরীর বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

এছাড়া নগরীর ১৬ টি থানার মধ্যে ১২টি থানাকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট বা রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ এর উপরে শনাক্ত হওয়ায় এসব থানাকে রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৩২৪ জন নিয়ে আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে কোতোয়ালি থানা এলাকা আর ৮৬ জন নিয়ে সদরঘাট থানা কম আক্রান্তের তালিকায় আছে। 

এছাড়া পাঁচলাইশে ২১৫, খুলশীতে ১৮৩, পতেঙ্গায় ১৬৮, হালিশহরে ১৬৭, ডবলমুরিংয়ে ১৪১, বন্দরে ১২৩, পাহাড়তলীতে ১১৪, ইপিজেডে ১১২, বন্দরে ১১১, চকবাজারে ১১১ ও চান্দগাঁওয়ে ১০৬ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় এসব থানাকে রেড জোনে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, ১০০ এর উপরে যেসব থানায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে সেসব থানাকে রেড জোনে রাখা হয়েছে। যেসব থানায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ থেকে ৯০ এর মধ্যে সেসব থানাকে ইউলো জোনে, ১ থেকে ১০ জনের মধ্যে থাকা এলাকা ব্লু জোনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য থাকা এলাকাকে গ্রিন জোনে রাখা হয়েছে।

নগরীর ৭৩২ টি এলাকায় এখন করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রয়েছে বলে নগর পুলিশের বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) সূত্রে জানা গেছে।

নগরীতে এ পর্যন্ত ৭৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ৩ এপ্রিল নগরীতে দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে সর্বপ্রথম প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর ১৩ এপ্রিল জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৫০ বছর বয়সী এক নারী। এটিই চট্টগ্রাম মহানগরীতে করোনায় প্রথম মৃত্যু হিসেবে শনাক্ত হয়।

এর আগে ৯ এপ্রিল সাতকানিয়ায় এক বৃদ্ধ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। পরে ১১ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। ১২ এপ্রিল রাতে পটিয়া উপজেলার ছয় বছরের এক শিশু করোনায় আক্রান্ত হিসেবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

চট্টগ্রামে প্রতিদিনই করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন এক বা একাধিক মানুষ। নমুনা পরীক্ষা না হওয়ায় এদের হিসাব কেউ রাখছে না। এছাড়া করোনা উপসর্গ বা অন্য কোনো জটিল রোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও মিলছে না চিকিৎসা। লকডাউন খুলে দেয়ায় নগরীর অধিকাংশ এলাকায় মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। এসব কারণে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

comments