চট্টগ্রাম-কলকাতা সমুদ্রপথে পণ্যবাহি জাহাজ সার্ভিস চালু

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলকাতা বন্দরে সমুদ্রপথে কন্টেইনারে পণ্যবাহী জাহাজ সার্ভিস চালু হয়েছে। করোনার কঠিন সময়েই জাহাজে পণ্য পরিবহন শুরুর চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বেসরকারি দুটি শিপিং কম্পানি। এতে ৩০ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলকাতা বন্দরে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এত দিন কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যভর্তি কন্টেইনার চট্টগ্রাম আনতে গেলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর হয়ে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসতে হতো। এতে সময় লাগত ১৩ দিন এবং খরচও প্রচুর হতো। ফলে কলকাতা থেকে সমুদ্রপথে পণ্য আনতে কেউ উৎসাহিত হতো না। আর বর্তমানে সড়কপথে এই দূরত্বে পৌঁছতেও কমপক্ষে ১৭ দিন সময় লাগে। নতুন উদ্যোগের ফলে বিপুল সময় সাশ্রয় ও পণ্য পরিবহন খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রপ্তানিতে যথেষ্ট পণ্য না থাকায় সার্ভিসটি কত দিন চলবে তা নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর-কলকাতা সরাসরি জাহাজ চালু করেছে হংকংভিত্তিক গোল্ড স্টার শিপিং লাইন। প্রতি মাসে তিনটি জাহাজ দিয়ে তারা সরাসরি কন্টেইনার সার্ভিস চালু করেছে। ‘এমভি এশিয়াটিক মুন’ গত রবিবার ২৯৪ একক কন্টেইনার নিয়ে কলকাতা বন্দর থেকে রওনা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। আর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকেই ৪৭৫ একক কন্টেইনার নিয়ে কলকাতা বন্দরের উদ্দেশ্য রওনা দেয়।

একই রুটে সিঙ্গাপুরভিত্তিক জাহাজ পরিচালনাকারী এক্সপ্রেস ফিডারের একটি কন্টেইনার জাহাজ পণ্য নিয়ে ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। কিন্তু তাদের সার্ভিসটি সপ্তাহের কোন দিন চলবে তা নির্দিষ্ট নয়। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সি কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন আহমেদ সাহেদ চৌধুরী বলেন, বাজারে চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের সার্ভিস। আগে থেকে দিনক্ষণ নির্দিষ্ট নয়। করোনার সময় স্থলবন্দরের পণ্যছাড়ে গতি কমে যাওয়া, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কলকাতায় চট্টগ্রামমুখী প্রচুর পণ্য আটকা পড়েছে। সে জন্য এই বিশেষ সার্ভিস চালু। কার্গো বাড়লে সার্ভিসের সংখ্যাও বাড়বে। তিনি বলেন, আমদানি বেশি এবং রপ্তানিতে পণ্য বুকিং কম হবে জেনেই আমরা এই রুটে সার্ভিস চালাই।

দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়ে কর্মরত চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেছেন, কলকাতা থেকে অপরিশোধিত তুলা, স্টিল মিলের কাঁচা পণ্য, সিমেন্ট শিল্পের কাঁচা পণ্য, পোল্ট্রি ফিড, গমসহ প্রচুর পণ্য সরাসরি সার্ভিসে আনার বড় সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ফিরতি পথে যথেষ্ট রপ্তানি পণ্য না থাকায় সার্ভিসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে না। ফলে রপ্তানিতে কাজ করা গেলে সার্ভিসটি ভালো সাড়া পাবে, ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।

সময় সাশ্রয় এবং পণ্য পরিবহন খরচ কমাতে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা উপকূলীয় নৌপথে (সমুদ্রপথ নয়) দেশীয় একাধিক শিপিং কম্পানি ২০১৫ সালে ছোট দেশীয় জাহাজে পণ্য পরিবহন সার্ভিস চালু করেছিল। কিন্তু যথেষ্ট পণ্য না পাওয়ায় সেই সার্ভিস মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

comments