চট্টগ্রামে করোনা ২৫০০ ছাড়াল, গত ১০ দিনে আক্রান্ত বাড়ল প্রায় দ্বিগুন

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যেন বাড়ছে লাগামহীনভাবে। গত ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর প্রথম মাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় মাসে চট্টগ্রামে রীতিমতো করোনার বিস্ফোরণ ঘটেছে। আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত মোট রোগী ২ হাজার ৫৮৩ জন।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ৪৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়, আগের দিন বুধবার ছিল ২১৫ জন। গতকালও ৩৮৯ টি নমুনা পরীক্ষায় ১৫৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রামে করোনা পরীক্ষার প্রধান ল্যাব বিআইটিআইডি জীবাণুমুক্ত করার কাজ চলমান থাকায়, গতকাল থেকে তিনদিন নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বন্ধ আছে।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। নমুনা পরীক্ষা শুরুর এক মাসের মাথায় ২৬ তারিখ এপ্রিল মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩ জনে। তবে মে মাসে বন্দরনগরীতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে দ্রুতগতিতে। দিনে গড়ে ২০০ রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গত ১০ দিনেই শনাক্ত হয়েছে প্রায় দ্বিগুন।

চট্টগ্রামে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জন্য সবপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। লাগামহীনভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত বাড়তে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো সচেতনতা কিংবা সতর্কতা নেই। প্রতিদিনই স্বাভাবিক সময়ের মতো চলাফেরা ও ঘোরাঘুরি করছে মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকেই করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি পৌঁছেছে ভয়াবহ পর্যায়ে। করোনা পরীক্ষার পর ফল পেতে দেরী, পর্যাপ্ত আইসোলেশন এবং জনসচেতনতার অভাবে বেড়েছে সংক্রমন। এ কারণে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা এখন চট্টগ্রাম।

প্রত্যেক দিন লাফিয়ে লাফিয়ে রোগী বাড়লেও চিকিৎসায় ডেডিকেট চারটি হাসপাতালে ১০টি আইসিইউসহ মাত্র ৩৪০টি শয্যা রয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ (১০টি আইসিইউসহ), ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ৩০, ফিল্ড হাসপাতালে ৬০ ও চমেক হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে ১০০ শয্যা করোনা রোগীর চিকিৎসায় ডেডিকেট রাখা হয়েছে।

গত ২১ মে ১০০ শয্যার হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল উদ্বোধন করা হলেও, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে হাসপাতালটি এখনো চালু করা যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘শিগগিরই হলি ক্রিসেন্ট চালু হবে। ইম্পেরিয়াল ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল চলতি সপ্তাহের শেষদিকে চালু হতে পারে। এসব হাসপাতাল চালু হলে শয্যা সংকট কেটে যাবে।’

মন্তব্য করুন

comments