চট্টগ্রামে কিট সংকট: করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম অর্ধেকে নেমেছে

চট্টগ্রামে কিট সংকটে অর্ধেকে নেমে এসেছে করোনাভাইরাস পরীক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে পরস্পর থেকে ধার করে কাজ চালাচ্ছে ল্যাবগুলো। এতে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে গেছে।

চট্টগ্রামে যে ছয়টি ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা হয়, তার মধ্যে বেসরকারি দুটিতে শনিবার কোনো পরীক্ষাই হয়নি। আর সরকারি চার ল্যাবের মধ্যে দুটিতে পরীক্ষা হয়েছে আগের দিনের এক চতুর্থাংশে।

রোববার (২৮ জুন) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ৪টি ল্যাবে ৫৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে ২৭ জুন প্রকাশিত ফলাফলে আগের দিন ছয়টি ল্যবে ৮৯০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।

চট্টগ্রামে এমনিতে নমুনা জটে রিপোর্ট পেতে ১০-১২ দিন লাগছে। এখন কিট সংকটে জট আরও বাড়াবে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে জেলায় সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে ল্যাব প্রধানরা জানিয়েছেন, ঢাকায় চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবারের মধ্যে কিট এসে গেলে সংকট কেটে যাবে।

বিআইটিআইডি ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ল্যাবের কিট গত শনিবার শেষ হয়। আজ (গতকাল) ১০০টি ধার করি। কিটের অভাবে পরীক্ষাও কম করতে হচ্ছে। ঢাকায় লোক পাঠিয়েছি, আশা করছি, সংকট কেটে যাবে।’

কিটের চাহিদাপত্র পাঠানোর পর তিনটি ল্যাবের প্রতিনিধিরা ঢাকা গেছেন। কোনো কারণে আজ কিট চট্টগ্রামে না পৌঁছলে মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ল্যাব সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সরকারি ল্যাবগুলোতে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তের জন্য একটি কিট দিয়ে দুটি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২৩ জুন মঙ্গলবার থেকে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

যদিও ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর তাঁরা এ ব্যবস্থা চালু করেছেন। এতে পরীক্ষার ফলাফলে কোনো হেরফের হচ্ছে না।

চট্টগ্রামে গত ২৬ মার্চ থেকে করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মার্চের শেষ দিকে এবং এপ্রিলের মধ্যভাগেও চট্টগ্রামে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা কিটের স্বল্পতা দেখা দেয়।

তবে প্রত্যেকবারই শেষ মুহূর্তে প্রতিনিধিরা কিট আনতে ঢাকা যান। এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments