চট্টগ্রামে আজ থেকে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়েছে

চট্টগ্রামে আজ থেকেই চালু হয়েছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট সেবা। দীর্ঘ ৬ মাস আগে গত ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর দেশব্যাপী এর কার্যক্রম শুরু হলেও, করোনা পরিস্থিতিসহ নানা জটিলতার কারণে চট্টগ্রামে ই-পাসপোর্ট সেবার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। 

একজন মুক্তিযোদ্ধার আবেদন জমা নেয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদে প্রথমধাপে গতকাল শুরু হয় ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। দ্বিতীয় ধাপে পাঁচলাইশ অফিসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ।

রোববার সকাল ১১টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্ণেল মোহাম্মদ নুরুল আলম।

পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মাসুম হাসান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২২ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে গত ২৩ মার্চ ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০ মার্চ আমাদের (পাঁচলাইশ অফিস) ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা থাকলেও করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারি সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার কারণে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন কর্মসূচি বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, ই-পাসপোর্ট জালিয়াতি করতে পারবে না কেউ। প্রতিটি পাসপোর্টেই দশ আঙ্গুলের ছাপ থাকবে। এয়ারপোর্টে পাসপোর্ট বের করা লাগবে না। এর মধ্যেও এম আর পি পাসপোর্ট যেগুলো বিতরণ হয়েছে সেগুলোর মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। তবে, এখন থেকে ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ করা হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এখন ই-পাসপোর্টই ব্যবহৃত হবে। বাংলাদেশের মানুষও এখন বিশ্বের বড় বড় এয়ারপোর্টগুলোতে ই-পাসপোর্ট নিয়ে সহজেই এয়ারপোর্ট পার হতে পারবে।

জানা গেছে, ই-পাসপোর্টেও আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই তার পিতা-মাতার পরিচয়পত্র নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

অনলাইনেই পূরণ করা যাবে ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র। এছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ফরমটি পূরণ করা যাবে।

পাসপোর্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি সাড়ে ৩ হাজার টাকা। জরুরি ফি সাড়ে ৫ হাজার টাকা ও অতীব জরুরি ফি সাড়ে ৭ হাজার টাকা। তাছাড়া ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি ৭ হাজার টাকা, জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা আছে।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট মিলবে তিন দিনে। জরুরি পাসপোর্ট সাতদিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট ২১ দিনে পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

comments