এবার খোলা ময়দানে হচ্ছে না ঈদের জামাত

এবার ঈদ জামাত ছাড়াই ঈদ উল ফিতরের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের। দেশজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঈদ জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিশাল ঈদগাহ ময়দান ও এলাকার বড় মাঠগুলোতে নামাজের জন্য সমবেত না হতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন। এমনকি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও ঈদের নামাজ হবে না বলে জানানো হয়েছে। 

ইসলামিক ফাউেন্ডশন জানিয়েছে, এবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বলেন, মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য বলা হয়েছে। জায়গা না হলে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে।

গত ১৪ই মে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বৈঠক করে ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে।

সেখানে বলা হয়েছে, মাস্ক পরে, বাসা বা বাড়ি থেকে ওজু করে, সামাজিক দূরত্ব মেনে, মসজিদের মেঝে জীবানুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহার করে এবার নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। মুসল্লির অনুপাতে মসজিদগুলোতে কয়েক ধাপে জামাতের আয়োজন করার নির্দেশনাও দিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন।

ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এবার নামাজের আগে-পরে কোলাকুলি ও হাত না মেলাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও যারা অসুস্থ, চিকিৎসাধীন এবং রোগীর সেবার নিয়োজিত বৃহত্তর স্বার্থে তাদের মসজিদে যেতেও বারণ করা হয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় কোন ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজন করা হবে না।

শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড খতিব আল্লামা ফরীদউদ্দিন মাসঊদ বলেন, ‘করোনা মহামারির বিরুদ্ধে পুরো মানবজাতি লড়াই করছে। এবার আমাদের শোলাকিয়া ঈদগাহসহ দেশের অন্য কোনও ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়া যাবে না, নামাজ আদায় করতে হবে মসজিদে।’

এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক এবার দেশজুড়ে মসজিদগুলোতে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

comments