করোনা রুখে দিয়ে যেভাবে বিশ্বে ১ নম্বর ভিয়েতনাম

সীমান্তের অপর প্রান্তের দেশটিতে তখন করোনায় আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তারপরও, প্রায় ৯ কোটি মানুষের মধ্যম আয়ের দেশ ভিয়েতনাম যেভাবে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করেছে, সেটা রীতিমতো বিস্ময়কর।

চীনের সাথে ১৪০০+ কিলোমিটার লম্বা বর্ডার শেয়ার করার পরও ভিয়েতনামে এখন পর্যন্ত মাত্র ২২২ করোনা রোগী পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে একজনও মারা যায়নি।

ভিয়েতনামে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ে ২৩ জানুয়ারী, যিনি ছিলেন একজন চীনা নাগরিক। দেশটিতে তখন চন্দ্র নববর্ষের উৎসব চলছিল।

ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখে দেশটির সরকার যখন করোনার বিরূদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬ জন।

প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ার সাথে সাথে দেশটি সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। কঠোরভাবে কোয়ারেন্টাইন আর মনিটরিং পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই সাথে করোনা সংক্রান্ত অসুস্থতার তথ্য গোপন করলে শাস্তির ঘোষণাও আসে।

ফেব্রুয়ারীর শুরুতেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়৷ লকডাউন আর অন্যান্য তদারকির জন্য মিলিটারির সহায়তা নেয় সরকার।

শুরুতেই যেসব রোগী ধরা পড়ে সাথে সাথে তাদের আইসোলেট করে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিল তাদেরকে ৪র্থ লেভেল পর্যন্ত ট্রেস করা হয়। খুঁজে বের করে তাদেরও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

বিদেশ (High Risk Country) থেকে আগতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় এবং নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। বাতিল করা হয় সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

উহান থেকে কিছু শ্রমিক ফিরেছে খবর পাওয়ার পর, হ্যানয়ের পাশে একটি শহরকে প্রায় ১০,০০০ মানুষসহ ৩ সপ্তাহের জন্য লকডাউন করা হয়।

দেশজুড়ে হোম কোয়ারেন্টাইন আর আইসোলেশন কঠোরভাবে মানা হয়। লকডাউন আর অন্যান্য তদারকির জন্য মিলিটারির সহায়তা নেয় সরকার।

কোনপ্রকার প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই শুধুমাত্র হিউম্যান সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কোয়ারেন্টাইন কঠোরভাবে মানা সম্ভব করে দেশটি।

দেশটির গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রন করে সেখান থেকে ক্রমাগত সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করা হয়।

ব্যবসা-বানিজ্য আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্যে ১ বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রনোদনা ঘোষণা করে সরকার।

ভিয়েতনামের প্রিমিয়ার তার দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ঘোষনা করে তার দেশবাসী উদ্দেশ্যে বলেন,

” প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি ঘর, প্রত্যেক নাগরিককে এই মহামারী মোকাবেলায় দূর্গ গড়ে তুলতে হবে।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নূন্যতম আর মৃতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় রাখতে গিয়ে, বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে দেশটি।

চীনের মত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে এত উন্নত না হয়েও, ভিয়েতনাম সাফল্যের সাথে করোনা মোকাবেলা করেছে। এখনো সতর্ক অবস্থায় আছে দেশটি।

শুরুতেই অবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করে, ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেয়া আর কঠোর অবস্থানের কারনেই করোনা মোকাবেলায় ভিয়েতনাম বিশ্বে ১ নম্বর।

* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। চাটগাঁ পোর্টাল-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য চাঁটগা পোর্টাল কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। *

মন্তব্য করুন

comments