করোনাঃ এশিয়ার হটস্পট বাংলাদেশ!

ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও দেশের একাংশ সচেতন নয়

করোনা সংক্রমণে এশিয়ার হটস্পটে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। জনতত্ত্ব-ঘনবসতি এবং আক্রান্তের হার হিসাবে সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবে স্পষ্ট।

উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি অর্থাৎ সপ্তাহখানেক পূর্বেও এশিয়ার হটস্পট ছিল পাকিস্তান। এরপরই পাকিস্তানকে টপকে ভারত শীর্ষে চলে গিয়েছিল। এবার প্রতিবেশি সব দেশকে ছেড়ে হটস্পটে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (১১ মে) দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ১,০৩৪ জন। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই হিসেবেও এশিয়া মহাদেশের অন্যান্য দেশগুলো ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার অনেক বেশি।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে সার্স কোভ-২ তে আক্রান্ত হয়ে। এছাড়াও নতুন করে ৯৬৯ জনের করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬ হাজার ৬৬০ জন। মোট মৃত্যু হলো ২৫০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৪৫ জন। এর ফলে মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ১৪৭ জনে।

মারাত্মক এই ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৩৪তম স্থানে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেন এবং রোমানিয়াকে পেছনে ফেলে সংক্রমণে এখন এশিয়ায় দশম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

আমরা যদি এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর দিকে তাকাই, দেখবো যে সে দেশগুলোতে করোনা টেস্টিং এর সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় ৩ গুণ বেশি।

ভারতে সোমবার পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৮ জনের। এর মধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ২৫৯ জন। সংক্রমণের হার ৪ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

সিঙ্গাপুরে এক লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮২২ জনের। সংক্রমণের হার ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত এক লাখ ২৯ হাজার ৮৬৫ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৯১ জন। সংক্রমণের হার ১২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণের ‘পিক আওয়ার’ এ লকডাউন শিথিল করে দেয়াতে সংক্রমনের শংকা আরো বাড়িয়ে তুলেছে সচেতন জনগণের। চলছে রোজা মাস। ইফতার বিক্রি হচ্ছে বাজারে, খোলা হয়েছে মসজিদ। আসন্ন ঈদের প্রতি লক্ষ্য রেখে নাগরিকের জীবন বিপন্ন করে খুলে দেয়া হয়েছে শপিং মল।

দেশের অসচেতন নাগরিকের উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাত্রা এখানেই সমাপ্ত নয়। পাল্লা দিয়ে একাংশ লোকজন বাইরে বেরোচ্ছেন করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। মানছেন না কোনপ্রকার সামাজিক দূরত্ব।

বিশেষজ্ঞরা দাবি জানাচ্ছেন, আগামি ২১ দিনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখযোগ্য যে, প্রথম অবস্থায় ফ্রান্স-স্পেন-ইতালির অবস্থাও বাংলাদেশেরই মতো ছিল।

মন্তব্য করুন

comments