ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’, সংকেত বেড়ে ৪

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ আরও উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে আসায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ’আম্ফান’ সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

সকালে আবহাওয়া অধিদফতর তাদের বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি সবচেয়ে বেশি পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তারপরে ঘূর্ণিঝড়ের কাছাকাছি অবস্থান করা সমুদ্রবন্দর হচ্ছে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দর। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা অঞ্চল দিয়ে আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এ ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে এ ঝড়ের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে দিন দুয়েক সময় লাগতে পারে।

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শনিবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। থাইল্যান্ড এর নাম দিয়েছে ‘আম্পান’। গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র গতি অনুসরণ করেই এগোচ্ছে ‘আম্পান’। আগামী মঙ্গল বা বুধবার এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

মঙ্গলবার নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ২০০ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া অফিস। তবে স্থলভাগের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে গতি কিছুটা কমে আসতে পারে।

মন্তব্য করুন

comments

আগের সংবাদবিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ১০ হাজার ছাড়াল
পরের সংবাদঈদে চট্টগ্রামে বন্ধ থাকবে সব বিনোদনকেন্দ্র, থাকছে জেল-জরিমানা