আনোয়ারায় স্ত্রীর লাশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে রেখে পলাতক স্বামী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় হাসপাতালে স্ত্রী সেলিনা আক্তার শেলীর লাশ রেখে পালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২২ বছরের শেলী চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর গ্রামের জেবল হোসেনের মেয়ে। শৈলীর স্বামী মোহাম্মদ শাকিব (২৮) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডোমখালী মালুমঘাট এলাকার মোহাম্মদ নোমানের ছেলে।

তারা দুজনই কোরিয়ান ইপিজেডের কর্ণফুলী সু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (কেএসআই) ২১ নম্বর ফ্লোরে চাকরি করতেন। সে সুবাদে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ২০১৯ সালের জুন মাসে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে তারা আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ তেলের দোকান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এটি সেলিনা আক্তারের দ্বিতীয় বিয়ে। তার আগের সংসারে আদনান হোসেন নামে ৪ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ছেলেটি বাঁশখালী উপজেলায় তার নানার বাড়িতে থাকে।

ভাড়া বাসাটির প্রতিবেশী হারুন বলেন, সকালে কাজে না যাওয়াতে শেলীর স্বামী শাকিবকে ফোন দিই। ওই সময় শাকিব জানায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হওয়াতে তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়েছে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে আনোয়ারা হাসপাতালে গেছে। পরে খবরটি শেলীর ভাইকে জানালে তারা হাসপাতালে আসেন।

বুধবার ভোরে হাসপাতালের গেটে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ। তবে মরদেহের গলায় দাগ রয়েছে। ওই নারীর পরনে নীল রঙয়ের সেলোয়ার কামিজ ছিল।  

আনোয়ারা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. এমরান জানান, মরদেহের গলায় দাগ থাকলেও কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখন বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার ভোরে কে বা কারা জরুরি বিভাগের বাইরে ওই নারীর লাশ রেখে যায়। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা লোকজন ভোর ৫টার দিকে দরজা খুলে বের হলে লাশটি দেখতে পান।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, শৈলীর গলায় রশির দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্ত হলে এ বিষয়ে আরও জানা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

মন্তব্য করুন

comments