অনলাইন জুয়ার প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অনলাইন জুয়ার প্রতারক চক্রের বাংলাদেশের মূলহোতাসহ ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতার প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য হলো- মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ শাওন (২০), মো. মনির হোসেন (৪০), মো. আরিফ উদ্দীন (৪০), ফয়সাল খান (৩২) ও মো. জাবেদ মিয়া (৪০)।  

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে, গোয়েন্দা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে আটক করা হয়।

এসময় ১টি প্রাইভেটকার, ৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, ৫টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, ১৮টি বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল সিম, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১টি এইট পোর্ট মডেম, ২টি ব্যাংকের চেক বই, নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খুলশী থানাধীন জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অনলাইন জুয়া প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গত চার মাস ধরে তারা বাইনানি ডটকম, বাইনানি টুয়ান্টি ফোর ডটকম নামক ওয়েবসাইট এবং বাইনানিস, প্রোফি আইকিউ, বাইনানি গো অ্যাপস ব্যবহার করে সাধারণ জনগণ এবং উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের টাকা ‘অনলাইন জুয়া’র মাধ্যমে প্রতারণা করে আত্মসাৎ করে আসছে।

পরে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব টাকা ডলারে কনভার্ট করে ইউক্রেনে এক ব্যক্তির কাছে পাচার করে আসছে চক্রটি।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করবে।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, চক্রটি বিকাশ, রকেট ও নগদের বিভিন্ন এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের এসআর/সুপারভাইজারদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে অবৈধ পন্থায় অন্যের নামে রেজিষ্ট্রেশন করা সীম সংগ্রহ করে।

ওই নম্বরগুলো ব্যবহার করে তারা সাধারণ জনগণ এবং উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ডলারে কনভার্ট করে অজ্ঞাতনামা সহযোগীর মাধ্যমে বিটকয়েনে রূপান্তর করে ইউক্রেনে আর্ট স্ট্রং নামক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয় বলে স্বীকার করে চক্রের সদস্যরা।

মন্তব্য করুন

comments