অনলাইনে যেভাবে ভ্রমণ কর দেবেন

স্থলপথে বিদেশভ্রমণের আগে ভ্রমণ কর পরিশোধ মানেই বাড়তি ভোগান্তি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো কিংবা পর্যাপ্ত ব্যাংক খুঁজে না পাওয়ার ঝক্কি তো আছেই। এবার সে ঝামেলা লাঘবে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এখন অনলাইনেই পরিশোধ করা যাবে ভ্রমণ কর।

ভ্রমণে যাওয়ার পথেও যে কোনো স্থান থেকে অনলাইনে বা মোবাইলে এই কর পরিশোধ করা যাবে। ভ্রমণ কর জমা নেয়া হয় সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকে। এ দুটি ব্যাংকের প্রায় সব শাখাই ইতিমধ্যে অনলাইনের আওতায় এসেছে। ফলে যে কোনো অনলাইন শাখা থেকে ভ্রমণ কর পরিশোধ করা যাবে। 

প্রাথমিকভাবে জল ও স্থলপথে ভ্রমণকারীরা অনলাইনে ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে আকাশপথেও অনলাইনে ভ্রমণ কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। আকাশপথে ভ্রমণের কর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিমান টিকিটের সঙ্গে কেটে নেয়া হয়। ফলে এক্ষেত্রে কর পরিশোধে বাড়তি কোনো জটিলতায় পড়তে হয় না। তবে কেউ ইচ্ছে করলে বিমান টিকিটের বাইরে আলাদাভাবে ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে পারেন।

অনলাইনে ভ্রমণ কর জমা দেবার জন্য সোনালী ব্যাংক নয় আপনাকে যেতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাই www.nbr.gov.bd তে। সেখানে হেডলাইনেই পাবেন ভ্রমণ কর পরিশোধের লিংক। না পেলে ই-সার্ভিস হেডিংয়ের নিচে সবগুলো ক্যাটাগরির মধ্যে “Travel Tax” অপশন দেখতে পাবেন।

সরাসরি এই লিংক ক্লিক করে যেতে পারেন: http://sbl.com.bd:7070/nbrTravelTax/Collection/Create

সেখানে আপনাকে কয়েকটি তথ্য পূরণ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে আপনার নাম (পাসপোর্ট অনুসারে), পাসপোর্ট নাম্বার, যাত্রীর ধরণ ( প্রাপ্ত বয়স্ক ১৮ এর বেশি, শিশু ৫ বছর থেকে ১২ বছর পর্যন্ত), কোন ধরণের পরিবহনে যাচ্ছেন (সড়কপথ, জলপথ, আকাশপথ), গন্তব্য কোথায় (ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার) এবং মোবাইল নাম্বার। এগুলো পূরণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ভ্রমণ কর কতটাকা পরিশোধ করতে হবে সেটা দেখিয়ে দিবে।

পেমেন্ট গেইটওয়েতে আপনি সোনালী ব্যাংক, কার্ড ও মোবাইল ওয়ালেট এ তিনটা অপশন পাবেন। পুরো প্রক্রিয়া সফল হলে আপনার ই-চালান পেয়ে যাবেন। সেটি প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে পারেন। এছাড়া আপনার মোবাইলে যে এসএমএস আসবে সেটা দেখালেও চলবে। তবে ই-চালানটি প্রিন্ট করে রাখাই ভালো। 

স্থলপথে যে কোনো দেশ ভ্রমণের জন্য ৫০০ টাকা এবং জলপথে ভ্রমণে ৮০০ টাকা কর দিতে হয়। ৫ বছরের বেশি থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত হারের অর্ধেক ভ্রমণ কর দিতে হয়। ৫ বছর বা তার কম বয়সী যাত্রী, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, অন্ধ ব্যক্তি, বাংলাদেশি ও বিদেশি কূটনীতিক, তাদের পরিবার, বিমান ক্রু, বিমানকর্মী, হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ কর দিতে হয় না। এর বাইরে অন্য ভ্রমণকারীদের এই কর দিতে হয়।

মন্তব্য করুন

comments