হ্যাকারদের হাত থেকে স্মার্টফোন বাঁচাতে যা করা উচিৎ

48
শেয়ার

স্মার্টফোন এখন সবার হাতে হাতে। এতে সবার জীবন যেমন সহজ হয়েছে, বেড়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।

২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয়েছে দেড়শ কোটি স্মার্টফোন। কিন্তু বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ফোনে থাকা তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নন। হ্যাকাররা সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিচ্ছে ছবি, ফোননম্বরসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

এমন হতে পারে ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে দেখতে পেলেন আপনার নাম, ছবি ব্যবহার করা আরেকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। কিন্তু আপনি সেই ছবি ফেসবুকে কখনো আপলোডই করেন নাই। আপনি নিশ্চয় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবেন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে কীভাবে এই ধরনের চুরি বা হ্যাকিং থেকে আপনি বাঁচতে পারবেন।

সাতটি উপায়ে আপনি পারেন নিজেকে এবং নিজের স্মার্টফোনটিকে সুরক্ষিত রাখতে।

সফটওয়্যার আপডেট
আপনার স্মার্টফোনটি সবসময় আপডেট রাখার চেষ্টা করুন। যদি হ্যাকাররা ফোনের সফটওয়্যারে কোনো ফাঁকফোকর খুঁজে পায়, নতুন সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সেই রাস্তা বন্ধ করে দেয় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু স্মার্টফোনের জন্য নয়, কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও আপডেট রাখা খুব জরুরি।

অ্যাপ ইন্সটল
অ্যাপ ইন্সটল করার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হ্যাকিংয়ের বড় ঝুঁকিতে আছেন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা। এর মূল কারণ থার্ড পার্টি অ্যাপ (তৃতীয় পক্ষ নির্মিত অ্যাপ)। এই অ্যাপগুলো ইন্সটল করার সময় কিছু বিষয়ের অনুমতি চেয়ে নেয়। দ্রুত অ্যাপটি ইন্সটল করার জন্য নেক্সট বাটন চাপার আগে ভালো ভাবে পড়ে দেখুন কিসের অনুমতি দিচ্ছেন। অনেক সময় প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপ ইন্সটল করেন। এটি আপনার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইন্সটল করাই নিরাপদ।

কঠিন পাসওয়ার্ড
ফোন চুরি বা ছিনতাই হয়ে গেলে ব্যক্তিগত তথ্য চলে যায় অনিরাপদ হাতে। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে অবশ্যই কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উত্তম। আর মোবাইল খুঁজে পাওয়ার জন্য আইওএস এবং এন্ড্রয়েডের আলাদা ট্র্যাক করার সেবা রয়েছে।

পাসওয়ার্ড সেভ না করা
আমরা অনেক সময় বারবার পাসওয়ার্ড টাইপ করার ঝামেলা এড়াতে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখি। আবার কেউ আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে চাইলে দিতে হয়। কিন্তু আপনি লগ আউট করতে ভুলে গেছেন। এমন অবস্থায় আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা হারাতে পারেন। তাই পাসওয়ার্ড সেভ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর অবশ্যই একই পাসওয়ার্ড সব অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না।

ব্যক্তিগত তথ্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব তথ্য প্রকাশ না করাই ভালো। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য থেকেও আপনার আপনার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যেমন, আপনার জন্ম তারিখ যদি ফেসবুকে দেওয়া থাকে সেখান থেকে তথ্য নিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে পরা সহজ হবে হ্যাকারদের জন্য। ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যাপারে সাবধান থাকুন।

ফ্রি ওয়াইফাই
কোথাও পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই কানেকশন পেলেও সংযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। ফ্রি ওয়াইফাইয়ে সংযোগ স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফোনের অনেক তথ্য চলে যায় ওয়াইফাই রাউটারে। সেখান থেকে আপনার ফোনের আইপি(IP) এড্রেস নিয়ে খুব সহজেই হ্যাকাররা আপনার ফোনের তথ্য চুরি করতে পারবে।

অ্যাপ লক
ব্যক্তিগত তথ্য আছে এমন অ্যাপগুলো পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লক করে রাখুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপগুলোতে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। যেমন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি।

মন্তব্য করুন

comments