বিমানে নগ্ন যুবক ছিলেন ‘পড়াশুনার চাপে ভারসাম্যহীন’

60
শেয়ার

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকাগামী প্লেনে অশালীন আচরণ ও এক নারী স্টুয়ার্ডের ওপর আক্রমণের অভিযোগে দিদার আলী মাহমুদ (১৯) নামের এক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, বিমান মাঝ আকাশে থাকার সময় ওই তরুণ এক নারী স্টুয়ার্ডের ওপর চড়াও হয়। শুধু তাই নয়, তরুণটি তার নিজের কাপড় খুলে ফেলে। মালয়েশিয়ার সাইবারজায়া ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকের শিক্ষার্থী তিনি। তবে মালিন্দো এয়ারের ফ্লাইটে নগ্নতা, হিংস্র আচরণের কারণে গত ২ দিন ধরে বিশ্বজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত হলেও পরিবারের দাবি, দিদার ‘পড়াশোনার চাপে ২ বছর আগ থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন।

এর আগে শনিবার (৩ই মার্চ) মালিন্দো এয়ারের ওডি-১৬২ ফ্লাইটের ভেতরে থাকা কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসার সময় দিদার তার পরনের জামাকাপড় খুলে ল্যাপটপে উচ্চ শব্দে পর্নো ভিডিও দেখেন। এরপর ফ্লাইটের টয়লেটের সামনে এক গৃহবধূকে হয়রানি করেন। শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর দিদারকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন’র হাতে সোপর্দ করে মালিন্দো এয়ার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মালিন্দো এয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দর থানায় তাকে আটকে রাখা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। বর্তমানে ছেলেটি বারিধারার ‘প্রমিসেস-সেন্টার ফোর ডি-এডিকশন অ্যান্ড ডিপ্রেশন’ এ চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তরুণটি তার সিটে বসে ল্যাপটপে পর্ণগ্রাফি দেখছিল আর স্বমেহন করছিল। ওই তরুণ দিগম্বর হয়ে টয়লেট যান এবং সিটে বসা অবস্থায় প্রস্রাব করে দেন। তিনি তার অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। ফ্লাইটের অন্য যাত্রীরা এই পরিপ্রেক্ষিতে তার হাত-পা একটি কাপড় দিয়ে বেধে ফেলে। দিগম্বর অবস্থায় তোলা ওই তরুণের ছবি হোয়াটস-আপ সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ঢাকায় প্লেনটি অবতরনের পর ওই তরুণকে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর নামার পর দিদারকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাস্টডিতে রাখেন বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন। তিনি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে চিকিৎসার কাগজপত্র দেখায় পরিবার। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট দিদারকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা দিলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রমিসেসে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে লোকজন এসে দিদারকে নিয়ে যায়।

দিদারের বাবা ফারুক আল মাহমুদ জানান, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে সাইবারজায়া ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যায় দিদার। পড়াশোনার ২-৩ মাস পরই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরে সে। আমি নিজে গিয়ে তাকে কেপিজে হাসপাতালে চিকিৎসা করাই। এরপর সে কিছুটা সুস্থ হয়। সে সুস্থ ছিল বলেই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, গত ১ বছর পড়াশোনার চাপে দিদার মাইন্ড ডিপ্রেশনের (মানসিক বিষণ্ণতা) শিকার হয়। এরই ফলশ্রুতিতে প্লেনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আমার সন্তান মদ্যপ ছিল না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় দিদার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মগ্ন থাকতো, ভালো ফলাফল করতো। এসএসসি-এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে কুয়ায়ালামপুরে পাঠানো হয়।

দিদারের বাবা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ৩ দফা দায়িত্বপালন করেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি জনশক্তির রফতানিকারক একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। ছেলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মাদকাসক্ত নয়। অতিরিক্ত পড়াশোনার কারণে আজ তার এ অবস্থা।’

মন্তব্য করুন

comments