সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন সাকিব

12

সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি। আইসিসিরি দুর্নীতি-বিরোধী নিয়ম বা অ্যান্টি করাপশন কোড লংঘনের তিনটি অভিযোগ সাকিব আল হাসান স্বীকার করে নেয়ার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি।

আইসিসির ওয়েবসাইটে আজ সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং-এর প্রস্তাব পাওয়ার পর সেটা গোপন করার অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা।

সাকিবের আল হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট।

প্রথম অভিযোগ:
আকসু তাদের বিধি-বিধানের ২.৪.৪ এর ধারায় সাকিবের বিরুদ্ধে প্রথম যে অভিযোগটি এনেছে সেটা এমন: ২০১৮ সালে জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের তিন জাতি ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু তিনি জুয়াড়িদের কাছ থেকে আসা সেই প্রস্তাবের বিষয়ে আইসিসিকে অবগত করেননি।

দ্বিতীয় অভিযোগ:
এই অভিযোগের ধারাও সেই একই ২.৪.৪। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তিনজাতি সেই সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো ক্রিকেট জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু এই প্রস্তাবের বিষয়েও তিনি আইসিসি বা আকসু কাউকেই কিছু জানাননি।

তৃতীয় অভিযোগ:
এই অভিযোগও সেই একই ধারায় ২.৪.৪। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস এলেভেনের ম্যাচেও জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। এই প্রস্তাবের ব্যাপারেও তিনি আইসিসিকে কিছুই জানাননি।

সাকিবও এই তিন অভিযোগ মেনে নিয়েছেন।

আইসিসি বলছে, আগামী এক বছর তিনি খেলতে পারবেন না, কিন্তু তিনি যদি সাজার সব শর্ত মেনে চলেন তাহলে তিনি ২০২০ সালের ২৯শে অক্টোবর থেকে মাঠে ফিরে আসতে পারবেন।

তবে সাকিব আল হাসান এই রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে পারবেন না।

আইসিসির বিবৃতি অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত তার নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আইসিসির এ্যান্টি করাপশন ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে সাকিব আল হাসান দায় স্বীকার করেন। এরপর তার স্থগিত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে যেখানে সাকিবকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে তিনি আর অপরাধের পুনরাবৃত্তি করবেন না।

আইসিসির দেয়া বিবৃতিতে সাকিব আল হাসান বলেন, “আমি খুব দুঃখিত, আমার নিষেধাজ্ঞার জন্য। আমি খেলাটি ভালোবাসি, তবে আমার বিরুদ্ধে আনা দায় আমি মেনে নিয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইসিসির যে অবস্থান সেখানে আমি আমার দায়িত্ব যথাযথ পালন করতে পারিনি।”

অ্যালেক্স মার্শাল, যিনি আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার, তিনি বলেন, ” সাকিব অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার, সে অনেক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, এটা তার দায়িত্ব ছিল এই প্রস্তাবগুলো রিপোর্ট করা।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাকিব আর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না এবং ভবিষ্যতে আইসিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করবেন।

মন্তব্য করুন

comments