বিপিএলে চিটাগাং ভাইকিংসের মালিকানা নিয়ে চট্টগ্রামের দর্শকদের ক্ষোভ

2121
শেয়ার

ঘরের মাঠেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারা চিটাগাং ভাইকিংস নিজেদের সাথে ‘ডুবাচ্ছে’ চট্টগ্রামের ক্রীড়ামোদীদেরও। নয় ম্যাচে ষষ্ঠ পরাজয়ের স্বাদ পেল চিটাগং। ৫ পয়েন্ট নিয়ে রইল পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই।

সোমবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে হারের পর অনেক দর্শক রাগ ঝাড়লেন চিটাগং ভাইকিংসের মালিকদের উপর। সরাসরিই জানিয়ে দিলেন, এই চিটাগং তো আমাদের নয়!

দর্শক প্রত্যাশা ছিল সিলেট আর ঢাকার মাঠের ব্যর্থতা হয়তো ঘুচবে নিজেদের সমর্থকদের সামনে। নিজেদের মাঠে। কিন্তু তা আর হলো কই? ঘরের মাঠেই তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই প্রায় বাদ দলটি।

এদিকে ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ফেরত দর্শকদের মধ্যেও ছিলো ভাইকিংসের হারের রেশ। বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন তাদের ক্ষোভের কথা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা ওমর গণি এমইএস কলেজের ছাত্র মিশু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের উপর রাগ ঝাড়লেন, ‘ভাই এই দলতো কম টাকায় মচমচা ভাঁজা খাওয়ার মতো।’

দেশের বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড় এই দলে আছে। তাদের দু একজন মাত্র বড় তারকা। কিন্তু বিদেশি কোন বড় তারকাকেই কেনেনি দলটি। অপেক্ষাকৃত কম নামের কয়েক খেলোয়াড়কে নিয়েই দল গড়েছে তারা।

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোন দল হলো! দলে এনেছে কাদের? মিসবাহ, যে তার নিজ দেশে চলে না। লুক রনকি, সেও তার দেশে চলেনা। সিকান্দার রাজা তো কোন বড় স্টার না। কি আছে এই দলে? মালিকরা যদি ভালো খেলোয়াড় না কিনতে পারে তাহলে দল ছেড়ে দিক। অনেকে আছে কেনার জন্য। আমাদের ইমোশন নিয়ে তো খেলার দরকার নেই।’

এছাড়া ভাইকিংসের টানা হারের ক্ষোভ গড়িয়েছে সোস্যাল মিডিয়াতেও। গতবারের আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে হার নিয়ে বেশ ক্ষোভ ছিল চট্টগ্রামের দর্শকদের। একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছিলেন, ‘ভাই খেলা’ খেলে হেরেছে নোয়াখালী ভাইকিংস!’ এবারো অবস্থা তথইবৈচ। উপরুন্ত, চট্টগ্রামের ছেলে তামিমও নেই দলে।

তবে বিস্ময়কর হলেও সত্যি তামিম চিটাগং দলে না থাকায় কোন আক্ষেপ বা রাগ নেই অনেকেরই। উল্টো খুশিই তারা। কারণটা ব্যাখ্যা করলেন এক দর্শক। তিনি বলেন, ‘তামিম এই দলে খেলে একা কি আর করতো? ও না হয় একটা দুইটা ম্যাচ একা জিতিয়ে নিত। লাভ কি হতো। কিছুই না। তার চেয়ে কুমিল্লা এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই দল গড়েছে। এবার তামিমই চ্যাম্পিয়ন হবে মনে হচ্ছে। এটাই আমাদের খুশি।’

উল্লেখ্য, বিপিএলে চিটাগাং কিংস নামে যাত্রা শুরু করেছিল চট্টগ্রামের এই দলটি। দ্বিতীয় আসরে রানার্সআপ হয়েছিল চিটাগাং কিংস। তখন এই দলটির মালিকানায় ছিলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ভাতিজা সামীর কাদের চৌধুরী। নানা কারণে বিতর্কিত সাকা পরিবারের হাতে বিপিএলের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেট আসরে চট্টগ্রামের দলটি থাকায় তখন চট্টলাবাসীর অনেকেই নাখোশ ছিলেন।

এরপর মালিকানা পরিবর্তন হয়ে চিটাগাং ভাইকিংস নামে দলটি চলে যায় ডিবিএল গ্রুপের মাধ্যমে নোয়াখালীর বাসিন্দাদের কাছে। এ নিয়েও চট্টলাবাসীর মধ্যে অসন্তোষের শেষ নেই। এর মধ্যে ক্রিকেটের উর্বর ভূমিখ্যাত চট্টগ্রামের নামে বিপিএলে অংশ নেওয়া এ দলটি ভালো পারফর্ম না করায় বিক্ষুব্ধ হন চট্টলার ক্রিকেটপাগল মানুষ। ক্রিকেটভক্ত চট্টলাবাসীর সমর্থনও হারাতে থাকে চিটাগাং ভাইকিংস।

দর্শকদের অনেকেই দলটির মালিকানা পরিবর্তন চান। তাদের প্রত্যাশা আগামীবার নতুনরূপে ফিরে এসে দলটি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করবে।

মন্তব্য করুন

comments