বাংলাদেশের টানা ষষ্ঠ হার

31
শেয়ার

টেস্ট এবং ওয়ানডে পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হতাশা দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ।সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ফিরতে পারল না টাইগাররা।

ডি কক ও ডি ভিলিয়ার্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে প্রথম টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের হার ২০ রানে।

১৯৫ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সূচনা করেন ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। সৌম্য চমৎকার সব শট খেললেও ইমরুল নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারেও আক্রমণাত্মক সৌম্যর দেখা মেলে। দুই ওভারে দুটি করে চার হাঁকিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তবে চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে ইমরুল ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে গেলে কিছুটা হোঁচট খায় টাইগাররা।

ইমরুলের বিদায়ের পর সাকিবকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে টেনে তোলেন সৌম্য।৩১ বলে ৫টি চার ও দুটি দর্শনীয় ছক্কার সাহায্যে ব্যক্তিগত ৪৭ রানে আউট হন সৌম্য।

তিন নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন সাকিবও। যার কাঁধে অধিনায়কের দায়িত্ব, ব্যাটিংয়েরও। বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। চার দিয়ে রানের খাতা খোলেন সাকিব; কিন্তু আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ফ্লাইলিংকের অফ সাইডের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্সের হাতে সহজ ক্যাচ দেন। ৩৪ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে অভিষেক হওয়া ফ্লাইলিংক পেলেন সাকিবের প্রথম উইকেট।পরের ওভারে ফাঙ্গিসোর বলে সেই পুরনো শট খেলে আবার ব্যর্থ হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। উইকেটে নেমে মাহমুদউল্লাহও আক্রমণাত্মক শট খেলে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ১০১ রানে ৫ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের আশা শেষ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের হয়ে সৌম্য সরকার ৩১ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২৭ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়া সাব্বির রহমান ১৯, সাকিব আল হাসান ১৩, মেহেদী হাসান মিরা ১৪ এবং মুশফিকুর রহীম করেন ১৩ রান। ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন বেউরান হেন্ডরিক্স, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, ড্যান প্যাটারসন ও আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো। অ্যারন ফাঙ্গিসো নেন একটি উইকেট।

টস হেরে আগে ফিল্ডিং করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। চার পেসার নিয়ে নামলেও ইনিংসের শুরুতেই স্পিন দিয়ে শুরু করে টাইগাররা। প্রথম ওভারে সাকিব ১০ রান দিলেও দ্বিতীয় ওভারে মিরাজ তুলে নেন হাশিম আমলার উইকেট। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে আমলার স্টাম্প গুঁড়িয়ে দেন মিরাজ। আমলাকে হারালেও প্রতি ওভারে দশ রানের বেশি তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ডি কক ও ডি ভিলিয়ার্স দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৯ রানের লম্বা জুটি গড়েন। রুবেল-তাসকিন-শফিউল ও সাইফুদ্দিন মিলে পাঁচ ওভার করলেও কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে ডি ভিলিয়ার্সের বড় উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মিরাজ।

ডি কক ৪৪ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন। ডি ভিলিয়ার্স ২৭ বলে আটটি চারের সাহায্যে খেলেন ৪৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস। এছাড়া ডেভিড মিলার ১৯ বলে ২৫ এবং ফারহান বিহারদিয়েন করেন ১৭ বলে ৩৬ রান।

মন্তব্য করুন

comments