ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে

57
শেয়ার

২-২ অমীমাংসিত সিরিজের আজকের ম্যাচটি জিতলেই বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক এক সিরিজ জয়ের গৌরব! ইতিহাস গড়ার এই সুযোগ থেকে মাত্র ১০২ রান দূরে আছে টিম জিম্বাবুয়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ১০২ রান।

এর আগে প্রথম ইনিংস এ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয়েছে ৮ উইকেটে ২০৩ রানে। ২.১০ গড়ে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলংকার ইনিংসে ধস নামাতে ভূমিকা রাখেন সিকান্দার রাজা।

আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ডের পেছনে চলে যাওয়া জিম্বাবুয়ের জন্য তা হবে খুব বড় এক পাওয়া। জিম্বাবুয়ের জন্য ক্রিকেটের ঘুরে দাঁড়ানোর টনিক হিসেবেই কাজ করবে এই সিরিজ জয়। কারণ,জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ‘শেষ’ দেখে ফেলেছিল অনেকে।

একসময়ের উদীয়মান শক্তি জিম্বাবুয়ে উন্নতির বদলে গত ১২ বছরে পরিণত হয়েছে ক্ষয়িষ্ণু এক শক্তিতে। রবার্ট মুগাবের স্বৈরাচারী শাসনে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গরা কোণঠাসা হয়ে পড়ার বড় প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটের ওপর। অথচ নিজেদের ক্রিকেটীয় শক্তির প্রমাণ দিয়েই ১৯৯২ সালে নবম দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পেয়েছিল তারা।

গোটা নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেটের বড় শক্তিগুলোর পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে রেখেছে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ। কিন্তু ২০০৪ সালের পর জিম্বাবুয়ে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে শ্বেতাঙ্গ অনেক ক্রিকেটার অকালে অবসর নিয়ে নেন। প্রতিবাদ জানিয়ে রোষের মুখে পড়ে দেশ ছাড়েন বেশ কজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারও। এসবেরই পরিণতি র‍্যাঙ্কিংয়ের ১২ নম্বর স্থানটি। মাত্র কয়েক মাস আগে নিজেদের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে টানা সিরিজ হেরেছে তারা। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের শেষকৃত্যটাই যেন বাকি ছিল।

কিন্তু ছাইভস্ম থেকে জেগে ওঠার আভাস তাদের খেলায়। শ্রীলঙ্কা আগের সেই দল নেই। তবু সেই শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই মাটিতে প্রতিটা ম্যাচে দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে জিম্বাবুয়ে, কে ভেবেছিল! এখন তো তারা বিরল এক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। বিদেশের মাটিতে যে জিম্বাবুয়ে এর আগে মাত্র তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতেছে। সর্বশেষটিও প্রায় নয় বছর আগে, দুর্বল কেনিয়ার বিপক্ষে।

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, হিথ স্ট্রিক কিংবা ডেভ হটনরাও এর স্বাদ পাননি। সেটিই হাতছানি দিয়ে ডাকছে গ্রায়েম ক্রেমার, শন অরভিন, সলোমন মিরে, সিকান্দার রাজাদের।

১৯৯৭ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় প্রেসিডেন্টস কাপে প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে শিরোপা জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। সিরিজের অপর দলটি ছিল তখনো টেস্ট মর্যাদা না পাওয়া বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে টেস্ট মর্যাদার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের মাটিতে আরও একটি ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছিল তারা। সেবার অপর দলটি ছিল কেনিয়া। এই দুটিই ছিল তিন দলের টুর্নামেন্ট; দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় গৌরবের মুহূর্ত এসেছিল ২০০০-০১ মৌসুমে। সেবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্লাওয়ার ভাই, ক্যাম্পবেল-স্ট্রিকদের জিম্বাবুয়ে। কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল ২০০১-০২ মৌসুমে। সে সময়ের ‘নবীন’ টেস্ট খেলুড়ে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেই এসেছিল সেই বিজয়।

এরপর কেটে গেছে ১৬ বছর। ২০০৮ সালে ক্রিকেটের ‘প্রায় হারিয়ে যাওয়া শক্তি’ কেনিয়ার বিপক্ষে একটি সিরিজ জেতা ছাড়া বিদেশে সিরিজ জয়ের স্বাদ আর পাওয়া হয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে কিছুদিন আগে তো আফগানিস্তানের কাছেও সিরিজ হারের লজ্জা পেতে হয়েছে তাদের। এর আগে-পরে ২০১৫ ও ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাটিতে আফগানদের কাছে তারা সিরিজ হারে।

সেই জিম্বাবুয়ে এখন শ্রীলঙ্কা থেকে সিরিজ জয় করে নেওয়ার সুবাস পাচ্ছে।

ছবিঃ ক্রিকইনফো

মন্তব্য করুন

comments