ক্রিকেটে প্রচলন ঘটছে বহুল আলোচিত লাল কার্ড প্রথা

38
শেয়ার

আগামীকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার থেকে অনেকগুলো নিয়মে পরিবর্তন আসছে প্রথম শ্রেণি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। যার ফলে অনেকটাই বদলে যেতে পারে ক্রিকেটের চেহারা।ব্যাটের মাপ থেকে রান আউটের নিয়ম, ডিআরএস থেকে ক্রিকেটারদের শাস্তি এরকম অনেক নিয়ম ক্রিকেটে চালু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রন সংস্থা ( আই সি সি)।

ফুটবলের মতো এ বার ক্রিকেটেও আসছে মাঠে নিয়ম ভাঙা খেলোয়াড়দের তাৎক্ষনিক শাস্তি। যার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে আম্পায়ারদের হাতেই। এই নিয়ম চালু হয়ে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকেই। তবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ওয়ান ডে সিরিজ যে হেতু আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে, পুরনো প্লেয়িং কন্ডিশন মেনেই খেলা হবে। কিন্তু কাল, বৃহস্পতিবার থেকে দুবাইয়ে যে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ চালু হবে, তাতে পরিবর্তিত নিয়ম মেনে খেলা হবে।

আইসিসির জেনারেল সেক্রেটারি জিওফ আলারডাইস বলেন, ‘বেশির ভাগ বিধানগুলো প্রচলন ঘটছে মূলত এমসিসির ল’স অব ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে অনুসরণে। সম্প্রতি ব্যাপকভিত্তিক কর্মশালায় আম্পায়ারদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে নতুন নিয়ম আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে কার্যকরের।’

মাঠে আচরণবিধি খুব বেশি মাত্রায় লঙ্ঘন করলে আম্পায়াররাই দোষী ক্রিকেটারকে তৎক্ষণাৎ মাঠ থেকে বহিষ্কার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ফুটবলের মতো লাল কার্ড ব্যবহার করা হবে কি না, তা পরিষ্কার করে জানায়নি আইসিসি। তবে এমসিসি-র প্রাথমিক বৈঠকে লাল ও হলুদ কার্ড ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ক্রিকেটারদের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু করে ব্যাট দিয়ে মাথায় আঘাত করার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে ক্রিকেটে। মূলত সেই ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতেই কড়া হওয়ার কথা ভেবেছে আইসিসি।

ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএসের নিয়মেও বদল আনতে চলেছে আইসিসি। রিভিউ চাওয়ার পরে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই যদি চূড়ান্ত হয়, সেক্ষেত্রে আবেদনকারী দলের রিভিউ নেওয়ার সুযোগ কমবে না। টেস্টে এ বার থেকে সারা ইনিংসে দু’বার করে রিভিউ নিতে পারবে দু’টি দল। টি-টোয়েন্টি-তেও ডিআরএস চালু হবে বলে জানিয়েছে আইসিসি।

ব্যাটসম্যানদের দাপট ক্রিকেট মাঠে যে ভাবে দিন দিন বাড়ছে, তাতে বোলারদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। বিশেষ করে যেরকম গদার মতো ব্যাট ব্যবহার করার সুযোগ পান ব্যাটসম্যানরা, তা বন্ধ করার দিকে নজর দিতে চাইছে আইসিসি। এ ব্যাপারে সকলে উদাহরণ হিসেবে টানছেন ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটকে। সেটা এতই চওড়া যে, মিসটাইম্‌ড শটও ছক্কা হয়ে যেতে পারে। ব্যাটের দৈর্ঘ্য বা প্রস্থে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। কিন্তু আইসিসি নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে ব্যাট কতটা চওড়া হতে পারবে। ব্যাটের কানা সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার ও ব্যাটের মাঝের অংশ সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার পুরু হতে পারে। রান আউটের নিয়মেও বদল আসছে এ বার থেকে। যদি ব্যাটের অংশ বা শরীরের অংশ ক্রিজের মধ্যে একবার ছোঁয়ার পরেও শূন্যে উঠে যায় এবং সেই অবস্থায় বেল ফেলে দেওয়া হয়, তা হলেও তা আউট বলে ধরা হবে না।

মন্তব্য করুন

comments