বিশ্ব একাদশকে হারিয়ে পাকিস্তানের শুভ সূচনা

31
শেয়ার

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিসের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। সাড়ে আট বছর পর আইসিসির তত্ত্বাবধানে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে বিশ্ব একাদশকে ২০ রানে হারিয়ে ১-০ তে লিড নিল সরফরাজ আহমেদের দল।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে, ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রানে থামে বিশ্ব একাদশের ইনিংস।

পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন ফখর জামান এবং বাবর আজম। ব্যক্তিগত ৮ রানে ফখর জামান বিদায় নিলেও বাবর আজম খেলেন ৮৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার ৫২ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল ১০টি চার আর ২টি ছক্কার মার। আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ৩৪ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে করেন ৩৯ রান।

দলপতি সরফরাজ আহমেদ ৪ রানে বিদায় নিলেও শোয়েব মালিক ২০ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কায় করেন ৩৮ রান। শেষ দিনে ৪ বলে দুটি ছক্কায় ১৫ রান করেন ইমাদ ওয়াসিম।

বিশ্ব একাদশের থিসারা পেরেরা দুটি এবং মরনে মরকেল, ইমরান তাহির ও বেন কাটিং একটি করে উইকেট পান।

বর্ণিল অটো রিকশায় চড়ে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেন বিশ্ব একাদশের খেলোয়াড়রা

১৯৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে ওপেন করেন তামিম ইকবাল আর হাশিম আমলা। তামিম ১৮ বলে তিনটি চারের সাহায্যে করেন ১৮ রান। আমলার ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ২৬ রান। টিম পেইন ২৫ আর দলপতি ডু প্লেসিস ২৯ রানে সাজঘরে ফেরেন। ব্যক্তিগত ৯ রানে ডেভিড মিলার বিদায় নিলে চাপে পড়ে বিশ্ব একাদশ। গ্রান্ট ইলিয়ট ১৪ রানে বিদায় নিলেও শেষ দিকে থিসারা পেরেরা ১১ বলে ২৭ রান করেন। আর ড্যারেন স্যামি ১৬ বলে তিন ছক্কা আর এক চারে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

পাকিস্তানের সোহেল খান, শাদাব খান আর রুম্মন রইস দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

আইসিসি তিনটি ম্যাচকেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির মর্যাদা দিয়েছে। পাকিস্তানিদের তো বটেই, বিশ্ব একাদশের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানেও যোগ হবে এই তিন ম্যাচের হিসাব।

এই ম্যাচের মধ্যদিয়ে পাকিস্তান জাতীয় দলের আট ক্রিকেটার নিজেদের মাটিতে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পায়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেট-ভক্তরা নিজ মাঠে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত। মাঝে ২০১৫ সালে অবশ্য একবার জিম্বাবুয়ে পাকিস্তানে গিয়ে খেলে এসেছে। ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপকে ঘিরে লাহোরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা দেখে বিশ্ব একাদশের অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস বলেন, ‘এত কঠোর নিরাপত্তা দেখে মনে হচ্ছে আমরা একটা সিনেমার জগতে বসবাস করছি।’

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
পাকিস্তানঃ ১৯৭/৫ (বাবর ৮৬, মালিক ৩৮; পেরেরা ২/৫১)
বিশ্ব একাদশঃ ১৭৭/৭ (স্যামী ২৯*, দু প্লেসি ২৯; সোহেল ২/২৮)

পাকিস্তান দল : সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ফাখর জামান, আহমেদ শেহজাদ, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, হাসান আলি, আমির ইয়ামিন, মোহাম্মদ আমির, রুম্মান রইস, উসমান খান, সোহেল খান।

বিশ্ব একাদশ : ফ্যাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, স্যামুয়েল বদ্রি, জর্জ বেইলি, পল কলিংউড, বেন কাটিং, গ্র্যান্ড ইলিয়ট, তামিম ইকবাল।, ডেভিড মিলার, মরনে মর্কেল, টিম পাইন, থিসারা পেরেরা, ইমরান তাহির এবং ড্যারেন স্যামি।

মন্তব্য করুন

comments