বার্সাকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ রিয়ালের

46
শেয়ার

স্প্যানিশ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের রিয়াল হারিয়েছে ২-০ গোলে। লজ্জায় ডুবিয়েছে বার্সেলোনা সমর্থকদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ অগ্রগামিতায় মৌসুমের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।

বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ অগ্রগামিতায় শিরোপা জিতেছে জিনেদিন জিদানের দল। প্রথম লেগে ৩-১ গোলে জিতেছিল তারা।

পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় দলে ছিলেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। গ্যারেথ বেল ও ইসকোকেও একাদশের বাইরে রাখেন জিনেদিন জিদান। গুরুত্বপূর্ণ তিন খেলোয়াড়কে ছাড়াই খেলতে নামা রিয়ালের জয়ের নায়ক আসেনসিও। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সব আলো নিজের ওপর নিলে ফেললেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। ‘এল ক্লাসিকো’র উত্তাপ হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়ে মাদ্রিদের ‘সোনার ছেলে’ হয়ে উঠলেন তিনি।

প্রথম লেগের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে চমৎকার এক গোলে জয় নিশ্চিত করেছিলেন। ঘরের মাঠে জালের দেখা পেতে সময় নেন মাত্র চার মিনিট। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তার আচমকা শট যে জালে ঢুকতে পারে তা যেন ভাবতেই পারেননি সামান্য এগিয়ে থাকা মার্ক আন্ড্রে টের স্টেগেন, জায়গা থেকে একচুল নড়েননি তিনি।

এই নিয়ে টানা ৬৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করলো রিয়াল। সবশেষ গত বছর এপ্রিলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি।

বার্সেলোনার খেলা ছিল শুরু থেকেই ছন্দহীন, খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল বোঝাপড়ায় ঘাটতি। প্রিয় খেলোয়াড়দের একের পর এক ভুল পাস সমর্থকদের হতাশায় বাড়িয়েছে শুধু।

তেমনি এক ভুলে ৩৩তম মিনিটে ফের গোল খেতে বসেছিল অতিথিরা। তবে লুকাস ভাসকেসের শট পোস্টে লাগলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় তারা। ছয় মিনিট পরই অবশ্য ব্যবধান দ্বিগুণ করেন করিম বেনজেমা।

দীর্ঘদিন ধরেই মাঝমাঠ ও রক্ষণ নিয়ে ভুগছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় গোলটিতে দলটির রক্ষণের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঁ-দিক থেকে মার্সেলো ছয় গজ বক্সে বেনজেমাকে পাস দেন। তার ঠিক পিছনেই ছিলেন সামুয়েল উমতিতি; কিন্তু তিনি যেন কিছু বুঝতেই পারলেন না, বল ধরে জায়গা বানিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির দুটি একক প্রচেষ্টা ছাড়া অতিথিরা তেমন কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। অষ্টাদশ মিনিটে দুজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও শট নিতে পারেননি। খানিক পরেই বাঁ-দিক থেকে গোলমুখে বল বাড়িয়েছিলেন; কিন্তু সময় মতো ঠিক জায়গায় যেতেই পারেননি অনুজ্জ্বল সুয়ারেস।

২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা বার্সেলোনা ৫৩ মিনিটে পেয়েছিল ম্যাচের সবচেয়ে সেরা সুযোগ। কিন্তু ভাগ্যদেবতা ছিলেন না মেসির সঙ্গে, তাই বারপোস্ট হয়ে দাঁড়ায় বাধার দেয়াল। সুয়ারেসের পাস ধরে ক্ষীপ্র গতিতে এগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে মেসি শট নিলেও নাভাসের হাতে লেগে বল আঘাত করে বারপোস্টে। ৭১ মিনিটে বার্সেলোনার গোলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আবারও নাভাস ও পোস্ট। মেসির দূর থেকে নেওয়া শট নাভাস ঝাপিয়ে ঠেকালে ফিরতি বলে হেড করেছিলেন সুয়ারেস, কিন্তু উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের হেড পোস্টে লেগে চলে যায় বাইরে।

এ বছরে এই নিয়ে চতুর্থ এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে দ্বিতীয় শিরোপা জিতলো রিয়াল। এ মাসের শুরুতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি।

মন্তব্য করুন

comments