পর্যটনের নতুন দিগন্ত আনোয়ারা

213
শেয়ার
পারকী বিচ, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম

আনোয়ারা বাংলাদেশের বন্দরনগরী ও বার আউলিয়ার পূর্ণভূমি চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে কাছের থানা। ৩য় কর্ণফূলী সেতুর সুবাদে বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।

আনোয়ারা উপজেলার মোট এলাকা ১৭৩.৫৩ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে পটিয়া,দক্ষিণে বাঁশখালী,পূর্বে চন্দনাঈশ উপজেলা এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর অবস্থিত। এ উপজেলায় দেয়াং পাহাড় মনমুগ্ধকর বনভূমি। কর্ণফুলী ও সাঙ্গু এ অঞ্চলের প্রধান নদী। হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া (রাঃ) এর পূণ্যভূমি,কর্ণফুলী নদীর তটে ও দেয়াং পাহাড়ের পাদদেশে শস্য-শ্যামল ঐতিহাসিক আনোয়ারা উপজেলা।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালে আনোয়ারা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। উপকূলীয় এই থানার নামকরণের ইতিহাস সর্বজনবিদিত নয় । জনশ্রুতি,আনারা নামে এক মগ রাজা এই থানার অধিকর্তা ছিলেন। পরে লোকমুখের উচ্চারণে এটি আনোয়ারায় পরিণত হয়। ১৯৮৩ সালে আনোয়ারা থানা উপজেলায় উন্নীত হয়।

আনোয়ারা উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো

পারকি সমুদ্র সৈকতঃ পর্যটন শিল্পের দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আনোয়ারা। চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত। সৈকতটিতে গেলে দেখতে পারবে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর। এই সমুদ্র সৈকতটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য , ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ‘পারকি সমুদ্র সৈকত’ ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের চেয়ে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হচ্ছে এ সৈকত। এখন রাস্তা ঘাট উন্নয়ন হয়েছে, ভাল ভাল রেস্টুরেন্টের ব্যাবস্থা হচ্ছে।

শাহ মোহছেন আউলিয়া রহঃ মাজারঃ অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বিখ্যাত শাহ বংশীয় আরব দরবেশ হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রঃ) কষ্টিপাথরে চড়ে সাগর মহাসাগর পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে প্রথমে টেশনাফে সাময়িক অবস্থান করেন পওে শংখ নদীর পাড়ে আনোয়ারার ঝিওরি গ্রামে আসতানা গড়েন।

কথিত আছে তাঁহার এক মেয়ে (নুরুজ্জাহান) ও ভাতিজা শাহ সিকান্দার উনার সাথে অত্র এলাকায় আসেন। ঐখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং ঐ জায়গায় তাঁকে সমাধিত করা হয়। পরবর্তীতে তাহার কবর শংখ নদীর ভাঙ্গনের ফলে তাঁর কফিনবক্স জেলেরা সংগ্রহ করে বটতলী গ্রামে সমাধিস্থ করে।

হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রঃ) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করতে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার অলি প্রেমিকরা আসেন।

এ ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিনোদন স্পট ওয়ান্ডার গার্ডেন, হিলটপ পার্ক, পরৈকোড়ার যোগেশ প্রসন্ন কুমারের জমিদার বাড়ি, রাজা রাজবল্লভের নরবলি মন্দির, তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী জমিদার বাড়ি, ইতিহাস খ্যাত মনুমিয়া-মলকা বানুর স্মৃতি বিজড়িত মনু মিয়ার মসজিদ ও দিঘী, চাঁদ সওদাগরের দিঘী, সিইউএফএল, কাফকো, ইপিজেড, গহিরা বিচ, সনকার দিঘী দেশের একমাত্র নৌ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন একাডেমি’ অন্যতম।

উল্লেখ করা যেতে পারে এ সব বিনোদন স্পট উন্নয়ন ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার। বোদ্ধামহলের ধারণা সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এসব স্পটগুলো দেশের অন্যতম বিনোদন স্পটে পরিণত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

comments