X

উন্নয়নের মহাসড়কে আনোয়ারা ও আগামীর ভাবনা

চট্টগ্রাম শহরের পাশ ঘেঁষেই আনোয়ারা উপজেলার অবস্থান এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর। আনোয়ারা তার ভৌগলিক অবস্হানের কারণে দিনদিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছে। এখানে বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী শিল্প গ্রুপ এখন বিনিয়োগের জন্য আনোয়ারা কে বেঁচে নিচ্ছে। ফলে শিল্পয়ানের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে আনোয়ারা।

বর্তমানে কাফকো, সি, ইউ এফ এল, কোরিয়ান ইপিজেড, সাদ মুছা ইন্ডাস্ট্রি এর কারণে ইতিমধ্যে আনোয়ারা উপজেলা শিল্প এলাকা হিসাবে খ্যাতি লাভ করছে। তাছাড়া ও বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্য সারাদেশে ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনোয়ারায়তেও চীনের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে কর্ণফুলী টানেল, ও মহেশখালী থেকে আগত গ্যাস লাইনের একটি সাবস্টেশন হবে আনোয়ারায়। এতে করে সহজেই বোঝা যাচ্ছে, আগামীর আনোয়ারা কেমন হতে যাচ্ছে।

উন্নয়ন অনেক সময় আত্নাঘাতীও হয়ে থাকে যদি তা সামগ্রিক ভারসাম্যপূর্ণ বা সুষম না হয়। হয়তো পাঠকদের মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে উন্নয়ন কিভাবে আবার আত্নাঘাতী হয়? জটিল কোন উদাহরণ টানছি না সরল ও সহজ একটা উদাহরণ দিচ্ছি বর্তমানে চাতরী চৌমুহনী তার স্হান বিবেচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে ফলে সবসময় যানজট লেগেই থাকে। সময়ের বিবেচনায় চাতুরী চৌমুহনী মোড় আরো বড় বা সঠিক ব্যবস্হাপনায় না আনার ফলে এটি হইছে। ফলে তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে প্রায় সময়। কাজেই পাশ্ববর্তী চাহিদা ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সার্বিকভাবে সকল সেক্টর কে এগিয়ে নিতে হবে।

একটা বিষয় আসলে খুবই কষ্ট দেয়, যখন দেখি যোগ্যতা থাকার পর ও আনোয়ারাবাসী চাকুরী পাচ্ছে না। এটা কিন্তু সুষম উন্নয়নের বিপরীত। কাজেই যোগ্যতার ভিত্তিতে আনোয়ারা যে সকল জনগণ চাকরি করতে আগ্রহী সকলকে চাকুরী প্রদান করতে হবে।

মূল কথায় আসি, ২০২১ সালে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ভিশনের আনোয়ারা ও অন্যন্য অবস্হানে গিয়ে পৌঁছাবে। চলমান প্রকল্পের অধিকাংশের কাজ শেষ হবে। আনোয়ারা একটি উপশহরে রূপ ধারন করবে। কিন্তু সেই অনুসারে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। যেমন চলতি মাসের ১৫ তারিখে উদ্ভোধন করা হল আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। যদি এত গুলো শিল্প কারখানা থাকার পর ও যদি আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকত ব্যাপার টা কেমন দেখাত?

ঠিক তেমনি যদি সত্যিই আনোয়ারা উপজেলাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের উপশহর হিসাবে গড়েতে হলে এখানে প্রয়োজন হবে, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনোদন স্পট, শপিংমল ইত্যাদি। প্রশ্ন হল এই গুলো কি রাতারাতি হয়ে যাবে? সোজা উত্তর হল না। কিন্তু তার জন্য অবশ্যই একটা ভবিষ্যৎ রুপ রেখা প্রয়োজন।

এই ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা রেখে চলেছেন আনোয়ারার মাটি ও মানুষের গর্ব বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম.ম.পি। ভবিষ্যতে ও আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন এই আশাবাদ রাখি। ইনশাআল্লাহ সমৃদ্ধশালী আগামীর আনোয়ারা পরিণত হবে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের উপশহরে।

(প্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত। লেখাটির কোন দায় চাটগাঁ পোর্টাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না।)

মন্তব্য করুন

comments