রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ এবং কিছু প্রশ্ন

296
শেয়ার

নাফ নদী দিয়ে ভেসে আসা পুরুষ, মহিলা,বাচ্চাদের গলিত,পোড়া, লাশ দেখে আমরা সবাই প্রতিবাদ করছি।
মিয়ানমার সরকার বা সামরিক লোকজন যা করছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

কারণ, বিষয়টা সম্পুর্ন রাষ্ট্রীয়। রাষ্ট্র তার শক্তি প্রয়োগ করছে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ভ্যানিশ করে দেওয়ার জন্য। বিষয়টা শুধু ধর্মীয় কিনা তা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান।
যে অঞ্চলে বিষয়টা হচ্ছে তা মুসলিম অধ্যুষিত।

মায়ের দেশ মিয়ানমারের সরকার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনি।কতটুকু নাগরিক অধিকার তারা ভোগ করে তা আমাদের অচেনা। মোটামুটি অচেনা একটি দেশ মিয়ানমার যদিও তারা আমাদের প্রতিবেশি।
টেকনাফ অঞ্চলে অন্তত ৫ লাখ(অনুমান) শরণার্থী রয়েছে যারা গত ৪০/৫০ বৎসরে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়েছে।

এই দীর্ঘ সময়ে মিয়ানমার তাদের ফেরৎ নেয়নি।বরং,কয়েক বছর পর পর তাদের সংখ্যা বাড়ছে। ওখানে জাতিসংঘ এর রিফিউজি বিষয়ক অংগ সংগঠন, আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারও কাজ করছে সাধ্যমত।

এই বারের সংকট শুরু হয়েছে ৩০টা পুলিশ চৌকিতে হামলায় প্রায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পরে। ওদের সরকার এই ঘটনার পরে অন্য ধর্মের লোকদের সরিয়ে মুসলিম নিধনে নেমেছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে যাচ্ছে।গুলি করে বা পুড়িয়ে ফেলে দিচ্ছে নাফ নদীতে।

ওরা বাংলাদেশের আকাশ সীমানা লংঘন করেছে কয়েকবার যার প্রতিবাদ বাংলাদেশ জানিয়েছে ওদের রাস্ট্রদূতকে ডেকে এনে। সীমান্তে সামরিক যে সতর্কতা চলছে তাতে ওদের রাষ্ট্রদূতকে বহি:ষ্কার ও হয়তো করতে পারে। ওদের আচরন থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় ওরা আমাদের বাজে প্রতিবেশী।

ফেসবুক নামক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। যারা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন তারা বলার চেষ্টা করছেন শুধু মুসলিম হওয়ার কারনে এই নির্যাতন হচ্ছে।তারা মুসলিম সবাইকে প্রতিবাদ করতে বলছেন,রাস্ট্র কোন বিষয় নয়। সিরিয়া,কাশ্মীর বা অন্যত্র মুসলিম যারা নির্যাতিত হচ্ছেন তাদের সাথে এদের জন্যও দোয়া করা হচ্ছে।

আমি কিছু বিষয় বুঝতে পারছি না।
১। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি করছে?
২। মিয়ানমারের দূতাবাসের সামনে কেন প্রতিবাদ হচ্ছে না?
৩। মিয়ানমারের মুসলিমরা কি চায়?
৪। তারা কি স্বাধীনতা চায় নাকি মিয়ানমারের নাগরিকত্ব??
৪। রাস্ট্র ভাগ হয়ে যাওয়ার পরে এই মুসলিমরা কিভাবে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত??
৫। কেউ কেউ দাবী করছেন সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য।
এর ফলাফল কি হবে? মিয়ানমারের সরকার এদের সবাইকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে ওই জায়গা খালি করবে। তখন বাংলাদেশ কি ওদের কোন কোন দেশে পাঠাবে? কোন মুসলিম দেশ বলেছে ওদের নাগরিকত্ব দেবে? সিরিয়া!!!! সৌদি আরব!!!! কই শুনলাম নাতো।!!!!
এখন যারা বাংলাদেশে আছে তাদের কখন ফিরিয়ে নেবে????
৬। ৭১ এর বাংলাদেশ পরিস্থিতি বা সিরিয়ার পরিস্থিতির সাথে কি কোন মিল আছে?
৭। বাংলাদেশ এদের জন্য কি করতে পারে???

লেখকঃ আইন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত। এর কোন দায়-দায়িত্ব চাটগাঁ পোর্টাল এর উপর বর্তায় না

মন্তব্য করুন

comments