X

৫ বছর ধরে আমিরাতের ভিসা বন্ধ

ফাইল ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা বন্ধ রয়েছে। অজানা কারণে প্রায় ৫ বছর ধরে আমিরাতের ভিসা বন্ধ রয়েছে।

২০১২ সালের ১২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে হঠাৎ করে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এতে নতুন ভিসা ইস্যু ও অভ্যন্তরীণ ট্রান্সফার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন বাংলাদেশিরা।

বাংলাদেশ সরকার, আমিরাতের কমিউনিটি এবং সাধারণ প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপায়ে ভিসা চালুর জন্য তৎপরতা চালালেও গত পাঁচ বছরেও এই জটিলতার অবসান হয়নি। এ কারণে হতাশা বিরাজ করছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে।

ভিসা বন্ধ থাকার কারণে ক্রমাগত ভোগান্তি বাড়ছে প্রবাসীদের। কর্মস্থলে নানা জটিলতা থাকার পরও অভ্যন্তরীণ ট্রান্সফার সুবিধার অভাবে মালিক পরিবর্তন করতে পারছেন না সাধারণ শ্রমিকরা। এছাড়া, দুবাইসহ আমিরাতের নানা শহরে থাকা বাংলাদেশিরাও শিকার হচ্ছেন নানা দুর্ভোগের। কথায় কথায় বাদ দেওয়া হচ্ছে চাকরি ক্ষেত্র থেকে। কর্মরতরা ছুটি কাটাতে দেশে আসতেও পারছে না ফিরে যাওয়ার ভিসা না পাওয়ার ভয়ে।

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি আবুধাবিতে ‘এশিয়া কো-অপারেশন ডায়লগ’(এসিডি)-এ যোগ দিতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা সহজ করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন আমিরাতের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।

আমিরাতের সাথে আলোচনার কথা উল্লেখ করে দেশের একাধিক মন্ত্রী ফেসবুকে পর্যন্ত পোস্ট করেছেন। শুধু তাই নয় একজন মন্ত্রী ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভিসা চালু হয়নি।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি গত ১৬ মে আমিরাতের মানবসম্পদ ও উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী সাকর ঘোবাস সাঈদ ঘোবাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভিসা চালুর ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি।

আমিরাতের প্রবাসী কমিউনিটি থেকে নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ভিসা চালুসহ আমিরাত সরকারের কাছে বাংলাদেশকে পজেটিভ দেশ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য। সেই অনুযায়ী ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে দুবাই সোশ্যাল ক্লাবের নেতৃত্বে প্যারেডে অংশ নেয় শতাধিক প্রবাসী।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখেরও বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আমিরাতে প্রতি বছর দুই লাখের বেশি কর্মী গিয়েছিলেন। দেশের লাখো পরিবার চলে এদেশের প্রবাসীদের উপার্জিত টাকায়। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটন্সের জন্য।

মন্তব্য করুন

comments