উইকিপিডিয়াতে আবরার হত্যা

21

আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনা স্থান পেয়েছে এখন উইকিপিডিয়াতে। জন্ম-মৃত্যুর উল্লেখ সহ তার ব্যক্তিগত জীবন, ফেসবুক সম্পৃক্ততা, হত্যা পরবর্তী ঘটনা, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, তারকাদের প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সহ বিভিন্ন বিষয় সেখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ৮ দফা দাবির কথাও উল্লেখ রয়েছে।

উইকিপিডিয়াতে বলা হয়, “আবরার ফাহাদ ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) -এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে তার জড়িত থাকা নিয়ে সন্দেহ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ভোঁতা জিনিসের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২২ বছর বয়সী ছাত্রকে তার সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে আক্রমণ করা হয়েছিল, যা ভারতের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির সমালোচনা বলে মনে হয়েছিল।”

তার নিহতের বিষয়ে উইকিপিডিয়াতে বলা হয়, “তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমে নিহত হয়েছেন। তিনি একই হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। আবরার ১০ দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল এবং ২০ অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিল। যাইহোক, যখন তার পরীক্ষাগুলি কাছাকাছি চলে আসছিল, তিনি পড়াশোনা করতে হলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ৬ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার দিবাগত রাত আটটার দিকে কিছু তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ও অন্যান্য দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নং কক্ষে ডেকে পাঠিয়েছিল বলে দাবি করেছেন, রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, বুয়েট ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু। ছাত্রলীগ নেতা, বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অনিক সরকার, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই ইউনিটের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক, অমিত সাহা তার উপর হামলার নেতৃত্ব দেন। আরেকটি সূত্রে জানা যায়, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ আগে থেকেই ফাহাদকে মারার পরিকল্পনা করছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছাত্রলীগের কর্মী মুনতাসির আল জেমি আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিন দফায় আবরার ফাহাদকে মারা হয়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মাহবুব সকাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিনের নেতৃত্বে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার পেটানো শুরু করেন। তার সাথে ছিলেন ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও মোজাহিদুল, রাফাত, আকাশ ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। শেষ দফায় গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্নাসহ মুনতাসির আল জেমি, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ,খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ২০০৫ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে পেটান। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা। এই হত্যার সাথে ২২ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী জড়িত। হত্যার পরে মেহেদি হাসান রাসেল ও অনিক সরকারসহ খুনীরা লাশ গুম ও ফাহাদকে মাদক দিয়ে ‘গণপিটুনির নাটক’ বলে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে থাকেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর শের-ই-বাংলা হলের নিচতলায় সোমবার ভোর তিনটায় পুলিশ আবরারের লাশ উদ্ধার করে। মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ মাশুক এলাহী রাত ৩ টার দিকে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। আবাসিক হলের দ্বিতীয় তলায় ইনস্টল করা একটি ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে যে কয়েকজন লোক তার হাত ও পায়ে করিডরে নিচে টেনে নিচ্ছেন।”

সেইসাথে হত্যাকারীদের আটক এবং পরবর্তীতে সারা দেশের প্রতিবাদের বিষয়টি ও উঠে আসে সেখানে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়ে সেখানে বলা হয়, “এই নির্মম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে জাতিসংঘ। যুক্তরাজ্য এই হত্যার ঘটনায় বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছে এবং মানুষের বাক স্বাধীনতার পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। জার্মানি দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং গণতন্ত্রে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারের কথা বলেছে। ফ্রান্স সমবেদনা প্রকাশ করে খুনীদের দ্রুত বিচারের কথা বলেছে।”

মন্তব্য করুন

comments