রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে ২৫ হাজার জাল সনদ জব্দ; আটক ৬

21

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তাকারী প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)। এসময় পাসপোর্ট তৈরির জন্য ভুয়া জন্মসনদ, কাউন্সিলরের সিল, সরকারি দপ্তরের সিল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ অবৈধ লেনদেনের ২ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

গতকাল (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকের নেতৃত্বে একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে চারটি কম্পিউটারের দোকানে অভিযান চালিয়ে এদের আটক করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইফুল ইসলাম (২৪), আজিম হোসেন (২৬), ফজলুল করিম (৩৩), ঢাকা মহানগরীর মাঈন উদ্দিন (৩৮), জাহাঙ্গীর (৩৬) এবং নেত্রকোনার মামুন মিয়া (৩৫)।

আটক ফজলুল করিম সাংবাদিকদের জানান, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে এক একটি জন্মসনদ করে দেওয়া হতো। এজন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ তাকে সহযোগিতা করতেন। মাঈনুদ্দিনের কাছ থেকে প্রাপ্ত জন্মসনদের জাতীয় সার্ভারের নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে জন্মসনদ বের করা হতো।

র‌্যাব কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুক সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে এ বিষয়ে তদন্তের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। এরা জন্মসনদ জাতীয় সার্ভার থেকে বের করতে সহযোগিতা করে আসছিলেন। পরে এদের দেওয়া তথ্য অনুসারে এ প্রতারক চক্রের অপর সদস্যদের আটক করতে বিকেল থেকে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের বাইরে কম্পিউটারের দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে চারটি দোকানে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া জন্মসনদ, কাউন্সিলরের সিল, সরকারি দপ্তরের সিল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ অবৈধ লেনদেনের ২ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

জন্মসনদ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, “এরা সিটি করপোরেশন কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাতীয় জন্মসনদ সার্ভারের নাম ও পাসওয়ার্ড নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতেন। এ কাজের জন্য প্রতারক চক্রের সদস্যরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় এলাকায় ভিড় করতো। এদের হার্ডডিস্ক চেক করে আমরা প্রচুর জন্মসনদ পেয়েছি। অনেক হার্ড কপিও পেয়েছি। এরা আবার রোহিঙ্গাদেরও এসব জন্মসনদ তৈরি করে দিয়ে পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করত। ইতিমধ্যে তারা ১৩/১৪ জন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ তৈরি করে পাসপোর্ট করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করার পর সে রকম তথ্য প্রমাণ জব্দ করেছি আমরা।”

তিনি বলেন, এগুলো সব আসল জন্মসনদ। কিন্তু যাদের নামে জন্মসনদগুলো তৈরি করা হয়েছে সেই লোকগুলো সনদ গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নয়।

তিনি আরও বলেন, “৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের নামে জন্মসনদ তৈরি করে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে তারা সেই জন্ম নিববন্ধন দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করত। পাসপোর্টের আবেদনে দেওয়া তথ্য তাদের জন্মসনদের সার্ভারের তথ্যের সাথে মিলে গেলে তারা সহজেই পাসপোর্ট পেয়ে যেত। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার নাম ও বাবার নাম পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করলে তাদেরকে বিমান বন্দরে আটকা যেত না।”

অন্য নামে জন্মসনদ নিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে রোহিঙ্গাদের বিদেশে যাওয়ার ঘটনা সম্প্রতি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে ধরা পড়া এরকম কয়েকজন রোহিঙ্গাকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্মসনদ ও পাসপোর্ট তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

comments