জোবায়েরের স্বীকারোক্তিতে নুসরাত হত্যায় ব্যবহৃত বোরকা উদ্ধার

61
নুসরাত হত্যায় ব্যবহৃত বোরকা

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহার করা একটি বোরকা উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত টিম।

আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের সরকারি কলেজ সংলগ্ন ডাঙ্গি খাল থেকে বোরকাটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বোরকা এ হত্যা মামলার অন্যতম আলামত বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই’র পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহ আলম।

জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার জোবায়েরকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পিবিআই। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম। জোবায়েরের দেয়া তথ্যানুযায়ী ডাঙ্গি খাল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি বোরকা উদ্ধার করা হয়।

জোবায়ের আহাম্মদ আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি। সে সোনাগাজী পৌরসভার তুলাতলি গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকায় দায় স্বীকার করে এখন পর্যন্ত ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এদের সবাই কিলিং মিশনে জোবায়ের আহাম্মদের সরাসরি অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৭ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে আবদুর রহিম ও শরীফ, ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় একই আদালতে হাফেজ আবদুল কাদের পরদিন ১৯ এপ্রিল অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।এর আগে ১৪ এপ্রিল রোববার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম।

তার আগে গতকাল (১৯ এপ্রিল) হত্যার ঘটনায় ‘সরাসরি অংশ নেওয়া’ সহপাঠী কামরুন নাহার মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, শুক্রবার মনিকে নিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা মাদ্রাসা ভবনের ছাদ ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেন।

হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মনি বুধবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মনিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌরশহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে যায়। সেখানে তারা দোকানমালিকের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে তারা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে নুসরাতকে কিভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বিবরণ দেন কামরুন নাহার মনি।

নুসরাত ছিলেন ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের পরিবারের দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর লোকজন তার গায় আগুন দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় মামলায় অধ্যক্ষ ও কমিটির সদস্যসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

এছাড়া শুক্রবার সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই। তবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না তা তারা এখনও নিশ্চিত করেনি।

ইতিমধ্যে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মামলাটির অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম জানিয়েছে- নুসরাতে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে হাত ও পা বেঁধে ফেলেন জোবায়ের। জাভেদ তখন রাফির সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয়। এরপর শাহাদাত হোসেন শামীমের চোখের ইশারায় জোবায়ের তার পকেট থেকে দিয়াশলাই বের করে কাঠি জ্বালিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পাঁচজনই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়। নামতে নামতেই তিনজন ছাত্র তাদের বোরকা খুলে শরীর কাপড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে। ছাত্রী দু’জন মাদ্রাসায় তাদের পরীক্ষার কক্ষে চলে যান। আর বাকি তিনজন নিজেদের মতো করে পালিয়ে যায়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে দেয়া তথ্যানুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদ্য বাতিল হওয়া মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে শুক্রবার বিকালে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই।

মন্তব্য করুন

comments