সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

19
শেয়ার

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য যে ৩০ শতাংশ কোটা আছে, তা বহাল থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন,‘মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতি পর্যন্ত যাতে চাকরি পায় তার জন্য কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, তিতীক্ষার জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, উন্নত হচ্ছে। ভালো চাকরি পাচ্ছে, তাদের জীবন পাল্টাচ্ছে।

বুধবার চট্টগ্রামের পটিয়ায় আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ পটিয়া সরকারি কলেজ ও আদর্শ স্কুল প্রাঙ্গণে এ জনসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রামের মেয়র আজম নাসির উদ্দিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন এবং প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান।

ওই জনসভায় চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে কথা  বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের জন্যই আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি এ কথা ভুললে চলবে না। তাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতি পর্যন্ত যাতে চাকরি পায় তার জন্য কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আর যদি কোটায় না পাওয়া যায়, সেটা শিথিল করা আছে, যেখানে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের চাকরি দেওয়া যাবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমাদের এ বিশেষ ব্যবস্থা করতেই হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ তাদের আত্মত্যাগের কারণেই তো আজ এ চাকরির সুযোগ। আজ এ স্বাধীনতা। আজ মানুষের এ উন্নয়ন। যদি দেশ স্বাধীন না হতো কোনো উন্নয়ন হতো না। কারও কোনো চাকরিও হতো না। কোনো উচ্চ পদেও যেতে পারত না। এ কথা ভুললে চলবে না।’ সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সরকারি হিসাব মতে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য রয়েছে ৩০ শতাংশ কোটা। আর এর বাইরে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর জন্য ১০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments