জাফর ইকবালের উপর হামলা;হামলাকারী শনাক্ত

30
শেয়ার

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তাকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শনিবার রাতেই সিলেট থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান চলছিল। শুক্রবার বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে এর উদ্বোধন করেছিলেন ড. জাফর ইকবাল। শনিবার বিকালে এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মো. রাশেদ তালুকদার জানান, মুক্তমঞ্চ এলাকায় পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ড. জাফর ইকবলের মাথায় আঘাত করা হয়।

ড. জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত সহকারী জয়নাল আবেদীন জানান, ‘স্যারকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তাকে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয় । তিনি সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার রাশেদুন্নবীর অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ একে মাহবুবুল হক।

অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে তার ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে সেলাই দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডাঃ মাহবুবুল সাংবাদিকদের বলেন, জাফর ইকবালের মাথার পেছনের দিকে ২টি, পিঠে ১টি ও বাম হাতে ১টি জখম রয়েছে। তার শরীরে ২৫ থেকে ২৬টি সেলাই পড়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এখন শঙ্কামুক্ত।

শনিবার বিকালে ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এই হামলার পরপরই হামলাকারী তরুণকে ধরে ফেলা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

হামলাকারীর প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে।তার নাম ফয়জুর রহমান। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদলের কালিয়ার কাপন গ্রামে। তার পিতা হাফিজ আতিকুর রহমান সিলেটের টুকেরবাজার মহিলা মাদরাসার শিক্ষক।

জানা গেছে, তারা বর্তমানে সিলেটের কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

কী কারণে ওই তরুণ জাফর ইকবালের ওপর হামলা করেছেন সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শনিবার রাত ৯টার দিকে হামলাকারীকে র‌্যাব-৯ এর হাতে তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জাফর ইকবালের চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

comments