অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই সীমান্তে সেনা সমাবেশ: মিয়ানমার

28
শেয়ার

তমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের সৈন্য সমাবেশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রয়োজন বলে দাবি করেছে দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। সীমান্তে মিয়ানমারের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে পতাকা বৈঠকে বিজিপির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তে গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই অতিরিক্ত সেনা ও ভারী অস্ত্র জড়ো করে বিজিপি। তমব্রু সীমান্তের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পোস্টের মাঝামাঝি এলাকায় সীমান্তের ১৫০ গজ অভ্যন্তরে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে তারা। এ ছাড়া বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের দেশটিতে না ঢুকে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে মিয়ানমারের সেনারা। এমন পরিস্থিতিতে বিজিপিকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায় বিজিবি। গতকাল গুনধুম সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন নাইক্ষ্যংছড়ির ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান। মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির সীমান্ত পুলিশের লেফটেন্যান্ট সোয়োজাই লিউ।

বৈঠক শেষে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, বৈঠকে মিয়ানমার দাবি করেছে, নিজেদের নিরাপত্তায় সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন সময়ে সেনা বা বিজিপি মোতায়েন করে তারা। তার অংশ হিসেবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহলও দেয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমারের নিজস্ব নিরাপত্তার প্রয়োজনে। এছাড়া মিয়ানমারের ভেতরে নির্মাণাধীন সীমান্ত সড়ক এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজেও কিছু সৈন্যকে সীমান্তে নিয়োজিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিপি। ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলির আগে বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলেও জানিয়েছে তারা।

৩৪ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ বিজিবির কাছে প্রশ্ন করে, সীমান্তে বাংলাদেশ কেন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। জবাবে আমরা জানাই, এটা মিয়ানমারকে টার্গেট করে করা হয়নি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই আমরা এটা করেছি। তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের যে কোনো সময় দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ।

এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় সীমান্তের শূন্যরেখার আশ্রয় শিবিরের একেবারে কাছে (তমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়ায়) গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাকে করে সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটাচ্ছে মিয়ানমার। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই সীমান্তে ১৪-১৫টি ট্রাকে আনা হয়েছে তিন শতাধিক সেনা। আগের দিন বৃহস্পতিবার সেখানে আনা হয়েছিল সাত-আটটি ট্রাকে করে আরো ২০০ সেনাসদস্য। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থেমে থেমে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা জি-থ্রি, একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল, মেশিনগানসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে পাহারা বসিয়েছে। আনা হয়েছে রকেট লঞ্চার, মর্টার। পাহাড়ের চূড়ায় পলিথিনের বেড়া দিয়ে তৈরি হয় একাধিক ছাউনি। পাহাড় খনন করে তৈরি করা হচ্ছে অসংখ্য বাংকার। সেখানে ভারী অস্ত্র নিয়ে পাহারা বসিয়েছেন সেনাসদস্যরা। এসব পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের দিকে ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি হালকা অস্ত্র তাক করে রেখেছে বর্মি সেনারা। এর পাশাপাশি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বেলা ১১টায় মাইকিং করে শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে করে সীমান্তের জিরো লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মতো যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। তবে শূন্যরেখার অবস্থানরত রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে থাকে, সেজন্য বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments